টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ও কয়েকটি বেসরকারি অফডকের কনটেইনারে থাকা আমদানি পণ্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিপূরণ ও 'অ্যাক্ট অব গড' ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির পানি ঢুকে কনটেইনারে থাকা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষ 'অ্যাক্ট অব গড' উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে নীতিগত সহায়তা চেয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যৌথ চিঠি দিয়েছে ৪টি ব্যবসায়ী সংগঠন।
৫ দিনের ভারী বৃষ্টিতে পুরো চট্টগ্রাম নগরীতে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সেই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা অনেক কনটেইনার আংশিক পানিতে ডুবে আছে। কয়েকটি বেসরকারি অফডকেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে কাগজজাতীয় উপকরণ, লবণ, রাসায়নিকসহ অনেক সংবেদনশীল পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
তবে, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর বা কোনো বেসরকারি অফডক কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির পানিতে কনটেইনারে থাকা পণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। বরং টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বন্দরে রাখা পণ্য, কার্গো বা কনটেইনারের কোনো ক্ষতি হলে 'অ্যাক্ট অব গড' অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না; এমন একটি নোটিশও জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড বা শেডে সংরক্ষিত কনটেইনার কিংবা পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির কোনো প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি।’
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ‘যদি কোনো আমদানি বা রফতানিকারকের পণ্য সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে, তার আগে ক্ষতির যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, ক্ষতিপূরণ এড়াতে 'অ্যাক্ট অব গড'-এর অজুহাত ব্যবহারে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে যৌথ চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্দর ও অফডকে জলাবদ্ধতার কারণে আমদানিকৃত তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক পণ্য এবং প্যাকেজিং সামগ্রী নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। শুধু 'অ্যাক্ট অব গড' বলে দায় এড়িয়ে গেলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে এবং ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ বলেন, “অতিবৃষ্টি কোনো অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। তাই এটিকে 'অ্যাক্ট অব গড' হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে বন্দরকেন্দ্রিক ২১টি বেসরকারি অফডক। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সময়ের আলো/মহু