কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহীর নওদাপাড়া, শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে যায়নি।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জানান, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে। সোমবার বিকেলে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। ফলে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।
বৈঠক থেকে ফিরে, শ্রমিকদের একটি অংশ শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি করে এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজশাহী ফেরা এবং অন্য জেলার বাস রাজশাহী থেকে বের হওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে, সকাল থেকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আর কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বাস টিকিট কাউন্টারগুলো অধিকাংশই খোলা রয়েছে। তবে, কখন কর্মবিরতি প্রত্যাহার হবে, তা কেউ বলতে পারেননি।
বাস বন্ধের কারণে আন্তঃজেলাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যাত্রীরা বিপদে পড়েছেন। তবে, বিআরটিসি বাস ও রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকায় এবং পাশের জেলাগুলো থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল চালু থাকায় ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।
মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ও পরিবহন শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, ‘সোমবারে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে নির্বাচন না দেওয়ার জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা চালায়। তারা সিদ্ধান্ত না মেনে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে, নজরুল ইসলাম হেলালের চেম্বার ভাঙচুর করে এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।’
রফিকুল ইসলাম পাখি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন জনগণের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই পরিবহন খাতকে অচল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা এই ষড়যন্ত্র করছে।’
সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য দ্রুত গাড়ি চালুর দাবি জানান তিনি।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘আমরা কাউকে বাস বন্ধের নির্দেশনা দেইনি। কয়েকজন শ্রমিক জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কর্মবিরতিতে গেছে। তারা মমিন ও শাহজাহান নামে দুজন শ্রমিককে মারধরও করেছে।’
নজরুল ইসলাম হেলাল আরও অভিযোগ করেন, ওই পক্ষটি নির্বাচন চায় না, তারা সংবিধান ভেঙে চেয়ার নিতে চায়। তবে, প্রশাসন বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্রুতই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
উল্লেখ্য, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ইস্যুতে গেল কয়েক মাস থেকে রাজশাহীতে বারংবার এমন বাস বন্ধের ঘটনা ঘটছে। যদিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আশ্বাসে প্রতিবারই এমন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু