চলমান বন্যার প্রভাবে মৌলভীবাজারে দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওড় এলাকাসহ বড়লেখা, জুড়ী, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর এবং সদর উপজেলার প্রায় ২৮টি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক ও খামারি গবাদিপশুর খাদ্য সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর মালিকরাও চরম সংকটে রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ চলছে।
ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান।
সরেজমিন ভুক্তভোগী কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যায় বিস্তীর্ণ চারণভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গরুর জন্য সংরক্ষণ করে রাখা ধানের খড় ও অন্যান্য গোখাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে খাদ্যের অভাবে অনেক গবাদিপশু দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে উঁচু জায়গা কিংবা সড়কের পাশে গবাদিপশু বেঁধে রেখেছেন। কেউ কেউ ধানের কুঁড়া ও অল্প পরিমাণ শুকনা খড় খাইয়ে কোনোভাবে পশুকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মাঠে এখনও পর্যাপ্ত ঘাস জন্মায়নি। গত কয়েক দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ঘাস ও গোখাদ্য পচে গেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের কারণে অনেক গবাদিপশু স্বাভাবিকভাবে খাবারও খাচ্ছে না। ফলে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে গবাদিপশু একই স্থানে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। চারণভূমি না থাকায় পশু চরানোর কোনো সুযোগ নেই। বাজারেও গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনে খাওয়ানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।
কথা হয় রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মিয়ার সঙ্গে। আলাপকালে তিনি বলেন, বন্যায় পুরো এলাকা ডুবে গিয়েছিল। চার দিন ধরে গরুগুলো ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। আমার আটটি গরুর মধ্যে দুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আশপাশে কোথাও পর্যাপ্ত গোখাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মিয়া।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি