বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার দেশজুড়ে আলোচিত ‘তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’কে সরকারি ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকেই তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সাথে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে, তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। এর আগে গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পাহাড়ি বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে দুর্গম এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা নিয়মিত বেতন দিতে পারত না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকট চলছিল।
এই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ছুটির দিনগুলোতে থানচি–তিন্দু–রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করতেন এবং সেই আয়ের বড় একটি অংশ দিয়ে সহকর্মী শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতেন।
সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখার এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক সংগ্রামের গল্প গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় তোলে। বিষয়টি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসলে তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার আলোকেই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি হলো তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সময়ের আলো/জেডি