খানাখন্দে বেহাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

2026-07-14T14:01:04+00:00
2026-07-14T14:08:46+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
খানাখন্দে বেহাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ পিএম  আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ২:০৮ পিএম
ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ছবি : সময়ের আলো
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, বারআউলিয়া, ফকিরহাট, উপজেলা গেট, ছোট দারোগারহাট, বড় দারোগারহাট ও পৌরসদর বাসস্ট্যান্ডসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে কোথাও একাধিক, কোথাও আবার বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হওয়ায়, যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তগুলো সহজে বোঝা যায় না। এতে দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে বিকট শব্দে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। অনেক সময় মালবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরির স্প্রিং, চাকা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক। ছবি : সময়ের আলো

ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক। ছবি : সময়ের আলো


ট্রাক চালক বদিউল আলম জানান, মহাসড়কের এই অংশে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় বিপরীত লেনে চলে যেতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

পণ্যবাহী ট্রাক চালক মো. শাহজাহান জানান, গত ৩ দিন ধরে এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে যেন মৃত্যুকূপের সঙ্গে যুদ্ধ করা। গর্তগুলো এতই গভীর যে, বৃষ্টির পানিতে কিছুই বোঝা যায় না। গতকাল রাতে কুমিরা এলাকায় আমার ট্রাকের সামনের চাকা গর্তে পড়ে এক্সেল ভেঙে গেছে। মালামাল নিয়ে সময়মতো বন্দরে পৌঁছাতে না পারায় আমাদের অনেক বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রশাসন কী দেখছে না যে, একটা জাতীয় মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে?

যাত্রীবাহী বাস চালক রহিম মিয়া বলেন, ‘যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। ফকিরহাট ও বারআউলিয়া এলাকায় ছোট-বড় এত গর্ত যে, ব্রেক চেপে গাড়ি কন্ট্রোল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটা গর্ত এড়াতে গেলে পাশের লেনের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়। যাত্রীরা ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকে। দ্রুত সংস্কার না করলে, এখানে যেকোনও সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।’


কাভার্ডভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসতে আমার নাভিশ্বাস উঠে গেছে। ভারী বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে মনে হয় রাস্তা একদম সমান, কিন্তু গর্তে পড়লে গাড়ির স্প্রিংয়ের যে অবস্থা হয়, তাতে মেরামতের খরচ জোগাতেই আয়ের বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। আজ অন্তত ৪-৫টি গাড়িকে রাস্তার পাশে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি।’

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ ফয়সাল বলেন, ‘একটানা ভারী বর্ষণের কারণে আগে সংস্কার করলেও, তা স্থায়ী হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বিটুমিনের কাজ করা সম্ভব ছিল না। তবে বৃষ্টি কমে আসায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুরোদমে বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট ও মেরামত কাজ শুরু করা হবে।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সচল করা হবে। এরপর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই সংস্কার করা হবে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণরেখা হওয়ায় দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষাকালে দুর্ঘটনা ও যানজট আরও বাড়বে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   সীতাকুণ্ড  গর্ত  ঢাকা  চট্টগ্রাম  মহাসড়ক  ঝুঁকি  যানবাহন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: