অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় কোস্টগার্ড মোংলা সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলামের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করে।
এ সময় দস্যু বাহিনীটি ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯৫ রাউন্ড গুলি জমা দেয়। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ডের জোনাল কমান্ডার বাকি দস্যুদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দস্যুতা না ছাড়লে এর পরিণতি ভালো হবে না।
কোস্টগার্ড জানায়, এই দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। আত্মসমর্পণকারী ২৭ সদস্যেরা হলেন, খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২) এবং হেলাল (৩৮)।
বাগেরহাটের রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা থানার আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) এবং শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১)।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮)।
কোস্টগার্ড মোংলা সদর দফতরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চলমান এই অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম আরও জানান, কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এর আগে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘ছোট সুমন’ বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য এবং ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কুখ্যাত ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আত্মসমর্পণকালে দস্যুরা কোস্টগার্ডের কাছে নিম্নলিখিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেয় বিদেশি বন্দুক ৩টি, এইট শুটার ১টি, ফোর শুটার ১টি, দেশীয় একনলা বন্দুক ৫টি, দেশীয় পাইপগান ১৫টি, চায়না পাইপগান ২টি, তাজা কার্তুজ ৩৪০ রাউন্ড, ফাঁকা কার্তুজ ৫৫ রাউন্ড।
দস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ডের পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই