এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সারাদেশ

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান

2026-07-14T15:06:04+00:00
2026-07-14T16:09:10+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম  আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ৪:০৯ পিএম
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। ছবি : সমেয়র আলো
সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিন আসামি—শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত সকলেই তৎকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে মামলার বাকি চার আসামি— আইনুদ্দিন আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনসহ মোট আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই বহুল প্রতীক্ষিত রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ এবং আদালতে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাহপরান (রহ.) মাজার থেকে ফেরার পথে এক দম্পতির প্রাইভেটকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আটকায় কয়েকজন যুবক। পরে জোরপূর্বক তাদের কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে ওই তরুণীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর ওই দম্পতিকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের গাড়িটিও আটকে রাখে দস্যুরা।


নৃশংস এই ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা মেলায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএ-র সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়।

এরপর ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

মামলাটি দীর্ঘদিন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। পরবর্তীতে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্যাতিত তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এমসি কলেজের এক অধ্যাপকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৮ জুলাই আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন (১৪ জুলাই) ধার্য করেছিলেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় পৌনে ছয় বছর পর দেশের অন্যতম আলোচিত এই লোমহর্ষক মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   এমসি কলেজ  ছাত্রাবাস  সংঘবদ্ধ ধর্ষণ  প্রধান আসামি  ফাঁসি  যাবজ্জীবন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: