মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, মাঠজুড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সারাদেশ

মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে

2026-07-14T16:00:50+00:00
2026-07-14T16:01:33+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, মাঠজুড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:০০ পিএম  আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ৪:০১ পিএম
মাঠজুড়ে আমন বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ছবি : সময়ের আলো
মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে উঠছে কৃষকদের বুকফাটা আর্তনাদ আর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার রোপা আমনের বীজতলা। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই বন্যায় জেলাজুড়ে ব্যাপক ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী রোপা আমনের বীজতলা ৮৬ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। আউশ ধান ২৪৮ হেক্টর জমির আউশ খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি ৬৪ দশমিক ৫ হেক্টর সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বন্যার পানি নেমে গেলেও বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চারা রোপণের সুযোগ হারাচ্ছেন কৃষকরা। রাজনগরের সৈয়দনগর এলাকার কৃষক মাসুদ মিয়া ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পানিতে আমার ২০ বিঘা জমির বীজতলা একবারে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমন চাষ কীভাবে করব, তা নিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।

একই এলাকার বর্গাচাষি আজাদ মিয়া ও ইমানি মিয়া জানান, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। কিন্তু চারা তৈরির বীজতলাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার জমি আবাদ করা নিয়েই বড় সংকটে পড়েছেন তারা।

কমলগঞ্জের সবজি ও ধান চাষি লিয়াকত বলেন, বন্যায় বীজতলা ও সবজির খেত দুটোই শেষ। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবার ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের জন্য খুবই কঠিন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, এবারের বন্যায় কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আমনের বীজতলায়। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা পুনর্বাসন সহায়তা এলে তা দ্রুত কৃষকদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে আরও জানান, চারা সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষি বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘বিআর-২২’ (নাবি জাত) ধানের বীজ মজুত রয়েছে, যা দিয়ে কৃষকরা এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুশিয়ে নিতে পারবেন।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   মৌলভীবাজার  বন্যার পানি  আমন বীজতলা  ফসল  ক্ষয়ক্ষতি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: