টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে যাচ্ছে সবজি ও পাটখেত। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। ফলে জেলাজুড়ে তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতলে বাড়ছে। সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে তিস্তা নদী অববাহিকায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। রাজারহাট উপজেলার চর তৈয়বখাঁ এলাকার কৃষক পাগলি মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গতবার তিস্তার পানি বাড়ায় মরিচ খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। অনেক জমিতে এখনো পানি জমে আছে। এর মধ্যেই সোমবার রাত থেকে আবার নদীর পানি বাড়ছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে অবশিষ্ট ফসলটুকুও আর ঘরে তোলা যাবে না।
একই উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তা নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরে ওঠানামা করছে। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) রাত থেকে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বসতভিটা নিয়ে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের নদীগুলোতে পানি বাড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় আমরা তৎপর রয়েছি। জেলার অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশে ভাঙনরোধে কাজ চলছে। বাকি ২ কিলোমিটার এলাকার কাজের অনুমোদনের জন্য জরুরি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই