রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ লেনদেন ও সহায়তার অভিযোগে বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনসহ তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রোববার (১২ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন, ১ নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) সন্তোষ কান্তি দাশ। ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মো. জাকের হোসেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আবদুল মতিন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫ চলাকালীন রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা, জাতীয়তা ও পরিচয় সংক্রান্ত ভুয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্র তৈরিতে সরাসরি সহায়তা করা, এবং নগদ অর্থের বিনিময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)-এর (খ) ও (ঘ) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান ও তিন সদস্যকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে।
ইউএনও আরও জানান, বরখাস্তকৃতদের পদগুলোতে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য এখনো কাউকে বিকল্প হিসেবে মনোনীত করা হয়নি। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই