বাগেরহাটে চলতি মৌসুমে ঢেঁড়সের (ভেন্ডি) আশাতীত ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সবজির সমারোহ থাকলেও সঠিক বাজারজাতকরণ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে চাষিদের লাভের আশা এখন ম্লান হতে বসেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে ঢেঁড়সের আবাদ হয়েছে। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, মোরেলগঞ্জ ও কচুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠ এখন সবুজ ঢেঁড়সে ভরপুর। ফলন ভালো হওয়ায় শুরুতে চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অনেকেই লোকসানের শঙ্কা করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি রমেশ চন্দ্র, জব্বার হাওলাদার, শিশির কুমার ও হরিপদ জানান, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ এবার উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়েছে। অথচ বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকার অজুহাতে পাইকারেরা নামমাত্র দাম হাঁকাচ্ছেন। ভোর থেকে কষ্ট করে মাঠের ফসল তুলে বাজারে এনে পাইকারি দরে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতেই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই এই সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
তবে মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক বিপ্লব হাওলাদার এবং বলইবুনিয়ার স্বপন হালদার, তপন হালদার শিপু ও হরষিত মঙ্গলী জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঢেঁড়সের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। বাজারে দাম কিছুটা কম হলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় শ্রমিক মজুরি মিটিয়ে কোনোমতে টিকে থাকা যাবে বলে আশা করছেন তারা।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ঢেঁড়স একটি লবণসহিষ্ণু ফসল হওয়ায় বাগেরহাটের উপকূলীয় পরিবেশে এর ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। তবে কৃষকেরা যদি একটু আগাম মৌসুমে এর চাষ করতেন, তবে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় অনেক ভালো দাম পেতেন।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, উপকূলীয় এই অঞ্চলে কৃষকদের লোকসান এড়াতে এবং লাভবান করতে সঠিক সময়ে বীজ বপন, উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে চাষিদের উৎসাহিত ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই