চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কঠিন প্রশ্নপত্র, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া এবং আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ‘পোল্ট্রি মুরগি’ বলে সম্বোধন করার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা দাবি আদায়ে অনড় থেকে বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ ১৪টি রুটসহ বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ও দূরপাল্লার সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাকুরা পরিবহনের টিকিট কাটা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জগলুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক বন্ধ থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাসে বসে আছি। দাবি আদায়ের একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা উচিত, এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সড়ক আটকে আন্দোলনের রেওয়াজ বন্ধ হওয়া দরকার।
মাদারীপুরগামী ব্যবসায়ী যতীন কর্মকার বলেন, সাধারণ মানুষ তো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা করেনি। তাহলে কেন আমাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হবে? সরকারের উচিত সড়ক-মহাসড়ক আটকে আন্দোলনের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আনা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চরম বৈরী আবহাওয়া এবং দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। উপরন্তু, কঠিন বিষয়ের পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতিমূলক ছুটি দেওয়া হয়নি।
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সাইফুর রহমান অমি বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর ওপর শিক্ষামন্ত্রী আমাদের ‘পোল্ট্রি মুরগি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীলের ভাষা হতে পারে না।
সরকারি বরিশাল কলেজের পরীক্ষার্থী জিসান মাহমুদ বলেন, সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা চলছে, অথচ এর মধ্যে একটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় আমাদের নানাভাবে কটূক্তি করা হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করার এবং সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই