মৌলভীবাজারে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বন্যাকবলিত ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সারাদেশ

চারদিকে শুধু বন্যার পানি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায়, সাহায্যের আবেদন নিয়ে বাইরে যেতে পারছেন না মৌলভীবাজারের এক প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যরা।

2026-07-14T15:06:57+00:00
2026-07-14T15:08:03+00:00
 
  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
মৌলভীবাজারে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বন্যাকবলিত ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম  আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ৩:০৮ পিএম
প্রতিবন্ধী পরিবারের ১১ সদস্য। ছবি : সময়ের আলো
চারদিকে শুধু বন্যার পানি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায়, সাহায্যের আবেদন নিয়ে বাইরে যেতে পারছেন না মৌলভীবাজারের এক প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যরা। এদিকে, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে কেউ আসেওনি তাদের বাড়িতে। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে, রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরপাড়ের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের কামাল মুন্সির বাড়ির ১১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা লাগাটা নদীর ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বাড়িটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। 

পানিবন্দি এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেন- ফখরুল মিয়া, কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া, সুফি বেগম, শারমিন বেগম, জগলু মিয়া, ফাইজা বেগম, সাজক মিয়া, আনিকা, লাউল মিয়া ও আকবর আলী।


ঘরের ভেতর আশ্রয় নিয়ে থাকা এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সহায়তা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। ফলে, তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।

তবে, সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুফি বেগম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চারদিকে পানি থাকায় কোনো কাজ করতে পারছি না। আগে মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ করে কিছু সাহায্য পেতাম। কিন্তু বন্যার পর থেকে কেউ আমাদের কাছে আসতে পারে না, আমরাও কোথাও যেতে পারি না। একবেলা খেতে পারলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।’


কামাল মুন্সি বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আমাদের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না। এরপর থেকে কোনো চিকিৎসাও করানো হয়নি।’

স্থানীয় সমাজসেবক সুমন আহমদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক সামাজিক সংগঠনও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। তাই তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন এখনো।’

রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, ‘১১ জনের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। বাকি ৩ জন আবেদন না করায়, এখনো ভাতার আওতায় আসেননি। আবেদন করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সরকারি কোনো বিশেষ সহায়তা বরাদ্দ এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।’

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা খোঁজ নিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   মৌলভীবাজার  মানবিক  সহায়তা  বন্যা  দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: