চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত বা পিছিয়ে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী ক্ষতি হত? আমি বন্যাদুর্গত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভয়াবহ বন্যায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বুক সমান পানি ভেঙে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং চরম জনদুর্ভোগের প্রমাণ। শিক্ষামন্ত্রীর উচিত ছিল এই বাস্তবতার দিকে নজর দেওয়া।
বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় এখানে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি ও গৃহপালিত পশু। একটি প্রাথমিক খসড়া হিসাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ওপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যাকবলিত এলাকার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে পানিবাহিত রোগ (চর্মরোগ, আমাশয় ইত্যাদি) নিরাময়ে বন্যাকবলিত প্রতিটি ঘরে ঘরে ওষুধ ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি সচল প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করলে সেটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নদীকে তার নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হতে দিতে হবে। আমাদের খাল, বিল ও হাওরগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। হাওরের বুক চিরে পরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা যাবে না। এতে জীববৈচিত্র্য ও আমাদের দেশীয় মাছের সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
সময়ের আলো/জোই