লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে ইজারাদারদের অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। সরকারি নীতিমালা ও টোল তালিকার তোয়াক্কা না করে হাটগুলোতে চলছে প্রকাশ্য ও নীরব চাঁদাবাজি। উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১৯টি হাট-বাজার থেকে সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮ হাজার ১৪৮ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, চড়া মূল্যে হাট ইজারা নেওয়ার পর সেই টাকা উসুল করতে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করছেন ইজারাদারেরা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি হাটে অনুমোদিত টোল বা খাজনার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানোর কথা থাকলেও কোনো বাজারেই তা মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি খাজনা জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে।
হাজিরহাট এলাকার ফজুমিয়ার হাট বাজারের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আগে যেখানে প্রতি হাটে ৩০ টাকা খাজনা দিতাম, এখন ইজারাদারের লোকজন জোর করে ১৪০ টাকা আদায় করছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে বাজারে বসতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ফজুমিয়ার হাট বাজারের ইজারাদার মো. হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, নীতিমালা অনুযায়ী দোকানগুলোর স্কয়ার ফিট হিসেবে টাকা নেওয়ার কথা। সেই নিয়মে হিসাব করলে অনেক বেশি টাকা আসে, কিন্তু আমরা তো তা নিচ্ছি না।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। বাজারগুলোতে অতিরিক্ত খাজনা বা টোল আদায়ের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসন যেন কেবল লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করে দ্রুত হাটগুলোতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। বাজারে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ অতিরিক্ত খাজনা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই