প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৫ এএম আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ৪:২৬ পিএম
বন্যার পানিতে মরে গেছে পটল গাছ। ছবি : সময়ের আলো গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের শত শত বিঘা জমির পটল খেত তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় পটলের গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে চরাঞ্চলের কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভারী বর্ষণের কারণে চরাঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের চোখে এখন শুধু অন্ধকার। উপজেলার বিভিন্ন চরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। চর সাঁড়াশিয়ার কৃষক কাদের প্রামাণিক জানান, তার দুই বিঘা জমির পটল খেতে বৃষ্টির পানি জমে গাছগুলো লালচে বর্ণ ধারণ করেছে এবং পচে মরে যাচ্ছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে তিনি আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
কৃষক খলিল মিয়া বলেন, তিনি ধারদেনা করে তিন বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছিলেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগ করায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল। আশা ছিল, পটল বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এবং অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সন্তানের পড়াশোনাসহ সংসারের খরচ চালাবেন। কিন্তু অসময়ের এই অতিবর্ষণ তার সেই স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
চর নাগদাহের ইউপি সদস্য ও কৃষক জাহিদ মোল্লা জানান, তার নিজের চার বিঘা জমির বেশিরভাগ পটল খেতই বৃষ্টির পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু নাগদাহ নয়—চর পেচাকোলা, চর পাইখন্দ, চর সাঁড়াশিয়া, চর নাকালিয়া, চর সাফুল্লা এবং হাটাইল-আঁড়ালিয়া চরের কয়েকশ বিঘা জমির পটল গাছ মরে গেছে। এখন রোদ উঠলেও বা জমি থেকে পানি নেমে গেলেও এই পচা গাছ থেকে কৃষকদের আর কোনো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চর পেচাকোলা গ্রামের কৃষক ও সমাজসেবক আবদুর রহমান ঠান্টু বলেন, বিগত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণে চরাঞ্চলের সিংহভাগ সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে পটলসহ অন্যান্য শাকসবজির আমদানি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে প্রতিটি সবজির দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ পটল খেতের পটল কৃষকেরা ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগেই ঘরে তুলতে পেরেছেন। তবে শেষ মুহূর্তের অল্প কিছু জমির পটল গাছ পানিতে বিবর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েকদিন টানা রোদ ও খরা হলে পরিস্থিতি আবার ঠিক হয়ে যাবে।
তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দাবি—যেসব গাছ একবার গোড়া পচে লাল হয়ে গেছে, তা রোদ উঠলেও আর বাঁচানো সম্ভব নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি প্রণোদনা বা কৃষি বিভাগের বিশেষ নজরদারি না পেলে চরের কৃষকেরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।
সময়ের আলো/জোই