শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি, নিশ্চিত করল পুলিশ ও পরিবার

নরসিংদী প্রতিনিধি

সারাদেশ

নরসিংদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও কৃত্রিম

2026-07-15T12:09:20+00:00
2026-07-15T12:09:20+00:00
 
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি, নিশ্চিত করল পুলিশ ও পরিবার
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম 
শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি, নিশ্চিত করল পুলিশ ও পরিবার
নরসিংদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। পুলিশ ও শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি ঘটনাকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে অতিরঞ্জিতভাবে ভাইরাল করা হয়েছে। পুলিশ সরজমিনে তদন্ত করে দেখেছে, শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি।

গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির দুই মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল। দীর্ঘদিন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলায় সায়মা আক্তারের জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) লতা বেগমকে বাড়ির সব কাজকর্ম একাই সামলাতে হতো।

এই কাজের চাপ নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ১১ জুন লতা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু রিজিকের পায়ে মোচড় দেন, যা সায়মা আক্তার তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন।


পরবর্তীতে সেই সাধারণ ভিডিওটিকেই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এডিট বা রূপান্তর করে প্রচার করা হয় যে— শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ সরাসরি ওই বাড়িতে গিয়ে তদন্ত চালায়। তবে সেখানে গিয়ে শিশুটির পা ভাঙা বা কোনো ধরনের শারীরিক আঘাতের আলামত পায়নি পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার নিশ্চিত করেন যে, ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং শরীরে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই। পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটলেও পরবর্তীতে লতা বেগমের বাবা এসে মেয়েকে শাসন করেন এবং পারিবারিকভাবেই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। তাই এই ঘটনায় পুলিশের কাছে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্যরা যৌথভাবে বসবাস ও ব্যবসা করেন। গৃহস্থালি কাজের চাপ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল। সেই ধারণকৃত দৃশ্যটিই এআই দিয়ে সম্পাদনা করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   শিশু  পা ভাঙা  এআই  পুলিশ  পরিবার  সময়ের আলো  নরসিংদী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: