প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামটি। প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে পৈতৃক ভিটামাটি হারিয়ে ইতোমধ্যেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় তীব্র রূপ নিয়েছে এই মানবিক বিপর্যয়।
পদ্মা নদীর ভাঙনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে শুরু করে এই এলাকা দিয়ে যাওয়া প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধটি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সব হারানো ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে তার বাপ-দাদারা চাকলার চর থেকে এসে এই এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন। বিগত কয়েক দফার ভাঙনে প্রায় সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে সামান্য যে জায়গাটুকুতে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই করে আছেন, সেটিই এখন তার শেষ সম্বল। কিন্তু আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেটিও নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রতি রাত তার কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
একই এলাকার আফতাবুল সর্দার (৭০) তার ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সবই পানির নিচে চলে গেছে। বিক্রি করতে পারলেও মনকে সান্ত্বনা দেওয়া যেত। কিন্তু এখানে তো নদী সব কেড়ে নিল। কেবল আফতাবুল সর্দারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এই গ্রামের বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনই এই আকস্মিক ও তীব্র নদীভাঙনের অন্যতম মূল কারণ।
বিগত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে নদী তীরে কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও, নদীর তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণে সেসব সাময়িক বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না। অনেক নেতাই বারবার এসে কথা বলে যান, কিন্তু বাস্তব কাজের কাজ কিছুই হয় না। শুধু আশ্বস্তই করেন।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, আমি আগেও এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
সময়ের আলো/জোই