বিশ্বকাপে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন ভাইরাল হয়েছে। পিটিশনটির উদ্যোক্তাদের দাবি, এতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটির বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
সম্প্রতি argentinaout.com নামের একটি ওয়েবসাইটে চালু হওয়া এই অনলাইন পিটিশনটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এতে ১ কোটির বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিশরের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর নাটকীয় জয়ের পর পিটিশনটি ব্যাপক সাড়া পায়। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা রেফারিদের অনুকূল সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে।
পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘আর্জেন্টিনা আউট’ একটি সমর্থক-নেতৃত্বাধীন প্রচারণা, যার লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দেওয়া। একই সঙ্গে সবার জন্য সমান নিয়ম, স্বচ্ছ রেফারিং এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর। ওই ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে লিওনেল মেসি একটি পেনাল্টিও মিস করেন।
ম্যাচ চলাকালে মিশরের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর ফাউলের অভিযোগ উঠলেও গোলটি বহাল রাখা হয়।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, পরিণতি যাই হোক, আমি আমার মত বলব। এটি স্পষ্টভাবেই সাজানো ছিল এবং সবাই তা দেখেছে। যদি তাদের এতটাই জেতাতে চান, তাহলে বিশ্বকাপে অন্য দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন কী?
তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা ফেয়ার প্লের কথা বলে, কিন্তু মাঠে আমরা সেটি দেখিনি। ওই ভুলগুলো না হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।’
তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা অন্যায় সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের জন্য এটি নতুন কিছু নয়।
স্কালোনি আরও বলেন, অনেকেই আর্জেন্টিনার জয় দেখতে চান না। এসব মন্তব্য আমার দলকে আরও ভালো ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করে।
আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ভিএআর এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কাউকে সুবিধা করে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এখন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যার সুযোগ প্রায় নেই।
সময়ের আলো/আরবিএন