লাখের বেশি হেডই ডেকে আনল মৃত্যু : বিশ্বজয়ী ইংলিশ তারকার করুণ ট্র্যাজেডি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক বিকেল। জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা গোটা ইংল্যান্ড। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে ট্রফি হাতে এক

2026-07-15T23:31:09+00:00
2026-07-15T23:31:09+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
খেলা
লাখের বেশি হেডই ডেকে আনল মৃত্যু : বিশ্বজয়ী ইংলিশ তারকার করুণ ট্র্যাজেডি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম 
নবি স্টাইলস। ছবি : সংগৃহীত
১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক বিকেল। জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা গোটা ইংল্যান্ড। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে ট্রফি হাতে এক ফুটবলারের বাঁধভাঙা নাচ ফ্রেমবন্দি হয়ে রইল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মুহূর্ত হিসেবে। তিনি নবি স্টাইলস, ইংল্যান্ডের সেই একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী রূপকথার অন্যতম এক মহানায়ক।

কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! সেদিন মাঠের যে জাদুকরী পারফরম্যান্স আর হেডের নিখুঁত দক্ষতায় তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেই হেডগুলোই যে তার মাথার ভেতর নীরবে এক বিষাক্ত জাল বুনে চলেছিল, তা সেদিন কারোরই জানা ছিল না।

নবি স্টাইলসের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে একজন খেলোয়াড় সাধারণত ১০টির বেশি হেড করেন না। কিন্তু মাঠের পেছনের আসল লড়াইটা অন্যরকম ছিল। অনুশীলনের কঠোর সেশনগুলোতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ বার তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা বল নিজের মাথায় টেনে নিতেন তিনি। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলতে চলতে তার মাথার ওপর বলের আঘাতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার বারে!

বাইরে থেকে হয়তো তখন কোনো ক্ষত দেখা যায়নি, কিন্তু প্রতিটি আঘাতের মৃদু কম্পন তার মস্তিষ্কের কোষে কোষে তৈরি করছিল এক অদৃশ্য ক্ষত। এই ক্রমাগত আঘাতই একসময় তার মাথায় জন্ম দেয় 'ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি' বা 'সিটিই' (CTE) নামের এক মারাত্মক ও অলক্ষ্য ব্যাধির।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে নবি হারিয়ে ফেলতে শুরু করেন তার চেনা পৃথিবী, প্রিয়জনদের মুখ আর সেই বিশ্বজয়ের গৌরবময় স্মৃতি। সিটিই নামক সেই নীরব ঘাতক রোগটি ডালপালা মেলে রূপ নেয় ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারে। স্মৃতিহীনতার এক অতল অন্ধকারে হারিয়ে গিয়ে অবশেষে ২০২০ সালে, ৭৮ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন ফুটবলের এই বীর সেনানী।


তার মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ম্যানচেস্টারের সিনিয়র করোনার অ্যালিসন মাচ এক তদন্তের মাধ্যমে এই করুণ সত্যটি সামনে নিয়ে আসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বারবার হেড না করলে স্টাইলসের সিটিই হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।

ভবিষ্যতে আর কোনো ফুটবলারকে যেন নবির মতো এমন ট্র্যাজিক পরিণতি বরণ করতে না হয়, সেজন্য তিনি ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ও দেশটির শিক্ষা বিভাগে বিশেষ সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নবির মস্তিষ্ক পরীক্ষা করা নিউরোপ্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ডু প্লেসিসও একই মত দিয়ে বলেন, বারবার হেড করলে যে সিটিই হতে পারে-এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য।

বাবার এই করুণ মৃত্যুর পর থেকে ফুটবলকে দায়ী করে ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াই শুরু করেছেন ছেলে জন স্টাইলস। তার স্পষ্ট অভিযোগ, হেডের এই মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও খেলোয়াড়দের কোনো যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। আজ এই লড়াইয়ে জন একা নন; ইংল্যান্ডের আরও অনেক সাবেক ফুটবলার এবং তাদের পরিবার একই অভিযোগে ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

একদা যে হেডে মেতেছিল পুরো ইংল্যান্ড, আজ সেই হেডই ফুটবল বিশ্বের সামনে রেখে গেছে এক কঠিন প্রশ্ন-খেলার সৌন্দর্যের আড়ালে আমাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের মস্তিষ্ক আসলে কতটা নিরাপদ?

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   নবি স্টাইলস  ইংলিশ তারকা  ট্র্যাজেডি 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: