২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগেই মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল। দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব টেনে ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এই কড়া বার্তার পর ম্যাচটি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভিয়াররুয়েল লিখেছেন, ‘আগামীকাল আমরা দখলদার জলদস্যুদের বিপক্ষে খেলব। এটি আর দশটি ম্যাচের মতো নয়।’
নিজের পারিবারিক আবেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ থাকার চেষ্টা করবেন না এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সবসময়ই ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। ভিয়াররুয়েলের বাবা ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে লড়াই করেছিলেন, যে যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
নিজের পোস্টে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একটি জনপ্রিয় স্লোগানের প্রতিধ্বনি করে ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, ‘এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি দিয়েগো, এটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা, আর এটি দখলদারদের থামিয়ে দেওয়ার লড়াই। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রাপ্য দাবি করে যাব।’
ফুটবল ম্যাচে রাজনৈতিক টানাপোড়েন যুক্ত করে তার এই উন্মুক্ত প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অবস্থানের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং খেলোয়াড়েরা শুরু থেকেই এই ম্যাচের সাথে রাজনীতিকে না জড়ানোর অনুরোধ করে আসছেন।
স্কালোনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। ফুটবল আর রাজনীতিকে একসাথে মেশানো এক ধরনের পাগলামি হবে।’
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে কঠোর নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রশাসন। দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামের ভেতর দর্শকদের ফকল্যান্ড বা মালভিনাস সংক্রান্ত কোনো পতাকা, ব্যানার, স্লোগান কিংবা প্রতীক বহন করতে দেওয়া হবে না।
সময়ের আলো/জেডি