নওগাঁয় ৯ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শহরের শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির আয়োজনে এ রথযাত্রা শুরু হয়। ঢাক-ঢোল বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে রথযাত্রা করানো হয়। বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ রথযাত্রায় হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগম হয়। রথযাত্রাটি শহরের পুরাতন গরুহাটি থেকে শুরু হয়ে শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দিরের পাশে এসে শেষ হয়। একইদিন বিকেল ৫টায় রথযাত্রার দ্বিতীয় টান দেওয়া হবে।
জানা যায়, পুণ্য তিথিতে নিজ নিজ রথে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা শোভাযাত্রা সহকারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নিজ মন্দির থেকে সপ্তাহকালের জন্য মাসির বাড়ি গমন করেন। এই বেড়াতে যাওয়ার উৎসবই রথযাত্রা। হিন্দুশাস্ত্র মতে, রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয়। রথ টানার সময় বাঁ পাশে একদল, ডান পাশে একদল, সামনে একদল এবং পেছনের দিকে একদল এবং শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু মাঝখানে থাকতেন।
প্রায় শত বছর ধরে শহরের কালিতলা এলাকায় কালিমাতা মন্দির কমিটির আয়োজনে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। কথিত আছে, রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। সেখানে কৃষ্ণ, ব্রজবাসীদের সঙ্গে ৮ দিন ছিলেন।
রথের রশি ছুঁয়ে রথ টানা শুধু নয়, বেশিরভাগ মানুষ রথের রশি যতটুকু পারে ছিঁড়েও নেন। টুকরো টুকরো রথের রশির সুতো মাদুলি করে ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে ও গলায় পরিয়ে দেন। বড়রাও পরেন। মানুষের বিশ্বাস, এই মাদুলি সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে। অসুখ- বিসুখ হলেও তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠা যাবে। অনেকেই রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন। ঘুমের ঘোরে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এ রকম কারও মাথায় রশির টুকরো অংশ ছুঁইয়ে দিলে কিংবা তার বালিশের নিচে রেখে ঘুমালে দুঃস্বপ্ন আসে না।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব ও নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীব রূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
৯ দিনব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে সেখানে বসেছে গ্রামীণ মেলা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রথাযাত্রার উৎসব দেখতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের আগমন ঘটেছে। এছাড়া, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এসেছে এ অনুষ্ঠান দেখতে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ।
শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন বলেন, ‘রথযাত্রার আগে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় গীতা পাঠ করা হয়। দেশ স্বাধীনের আগ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। ৯ দিনব্যাপী এই গ্রামীণ মেলায় বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইডস রয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু