কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পদ স্থগিত করা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ অফিসে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
এর আগে, বুধবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে ১ জন এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা থেকে অন্য ২ জনকে আটক করা হয়।
প্রেস ব্রিফিং। ছবি : সময়ের আলো
আটককৃতরা হচ্ছেন- বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের মো. মহিউদ্দিন (৩২) ও মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
পুলিশ সুপার জানান, আটককৃতরা পেশাদার অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, হত্যার জন্য তাদেরকে ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে।
তবে, কে বা কারা নেপথ্যে থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কি কারণে ঘটিয়েছে সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে কোর্টে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও পেছনের কারিগরদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ- ৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। একইসঙ্গে ৩ জন হত্যাকারীকে আটক করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘নিহত জাহাঙ্গীর বিএনপির জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন। তার মতো একজন ভালো মানুষকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিঠামইন বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থগিত করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার ( ১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর। উপজেলা সদরের কামালপুরে বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল থেকে নামতেই, আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ৩ দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে। সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে রক্ষা করতে গেলে, তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে, হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে, ঘটনাস্থলেই চাপাতিসহ হেলাল নামে একজনকে আটক করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।