মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের’ স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেঁধে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনায় আরও ১০ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিনে মোট ১৪ জন ডাকাত আটক হলো। এছাড়া, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে গজারিয়া থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আরও ১০ ডাকাতকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের শাহ আলম (২৩), শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের রনি শিকদার (৩৪), একই জেলার খিপুর উপজেলার চরচান্দা ঢালীকান্দি গ্রামের জামাল (৪০), বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (৩৮), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সংবহন পালের বাজার এলাকার মনোরঞ্জন দাস (২৭), খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামের আল আমিন সানা (১৯), একই উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের অলোকেশ মন্ডল (৩৫) ও অলিউর রহমান (২৪), একই জেলার কয়রা উপজেলার নারায়ণপুর মধ্যপাড়া গাজী বাড়ি গ্রামের সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪) এবং ঢাকা জেলার বাড্ডা থানার বড় বেরাইদ ডগরদিয়া গ্রামের মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬)। গ্রামের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় হলেও, তারা বর্তমানে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী কনস্ট্রাকশন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল ট্রাকে করে লুটে নেয়। লুট করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্স পাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি ও ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে বুধবার রাতে ৪ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে, তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা থেকে দুই দিনে ১৪জন ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২ টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু