পাবনার সুজানগর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলা সদরের মথুরাপুর এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে লোকজনের জড়ো হওয়ার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে মথুরাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের দুটি টহল দল। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, আটকের পরপরই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আটককৃতদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের সরাসরি উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতার আতঙ্কে তিনি জেলার বাইরে অবস্থান করছেন এবং পুলিশের ভয়ে এলাকায় যান না।
তার ভাষ্যমতে, রাতে ফুটবল খেলা দেখার পর গ্রামের ছেলেরা খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুলিশ সেখানে গিয়ে বিনা কারণে ১০-১২ জনকে আটক করলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নারীরা ঘর থেকে বের হয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি