সরকারি গুদামে ২৩ লাখ ৭৭ হাজার টন খাদ্যশস্য

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

দেশে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সরকারের গুদামে চাল, ধান ও গম মিলিয়ে মোট ২৩ লাখ ৭৭

2026-07-17T02:00:56+00:00
2026-07-17T02:00:56+00:00
 
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সরকারি গুদামে ২৩ লাখ ৭৭ হাজার টন খাদ্যশস্য
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দেশে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সরকারের গুদামে চাল, ধান ও গম মিলিয়ে মোট ২৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বাজারে চালের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৯ লাখ ২২ হাজার ৯৭৬ টন চাল, ২ লাখ ৯ হাজার ২২১ টন ধান এবং ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৮৪ টন গম সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে চালের মজুদ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এর আগে গত ৬ জুলাই সরকারি খাদ্যগুদামে মোট ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ মেট্রিকটন খাদ্য মজুদ করে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। এ ছাড়া তারও আগে ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার ২২ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ করে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। আর ২০২২ সালে সরকারি মজুদ ছিল ২১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিকটন। বর্তমান মজুদে অতীতের সব রেকর্ডই অতিক্রম করেছে।

খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় সরকারি খাদ্য মজুদ আগে কখনো হয়নি। বিপুল এই মজুদের ফলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনা এবং বাজারে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা সরকারের অনেক বেড়েছে। তবে রেকর্ড পরিমাণ মজুদ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।

খাদ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সরকারি গুদামগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। নতুন করে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তারও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বছরের তুলনায় এবার ধান সংগ্রহের গতি সন্তোষজনক এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনাও বেশি।

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মু. জসিম উদ্দিন খান জানান, দেশে কখনো এত বেশি চালের মজুদ ছিল না। বিপুল পরিমাণ খাদ্য মজুদ থাকায় সরকার অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে এটি একটি ইতিবাচক অর্জন। তিনি বলেন, চলমান সংগ্রহ অভিযান শেষ হলে সরকারি খাদ্য মজুদ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাদ্য অধিদফতরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা অতীতের মজুদের সব রেকর্ড ভেঙেছি। বোরো সংগ্রহ অভিযান শেষ হলে সরকারি মজুদ আরও বাড়বে। তার মতে, বর্তমান মজুদের কারণে বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং মূল্যও তুলনামূলক স্থিতিশীল। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এই খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কোনো চাল আমদানি করা হচ্ছে না। বিদ্যমান মজুদ দেশের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। ভবিষ্যতেও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

খাদ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি গুদামে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা কিংবা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার মতো পরিস্থিতিতেও দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সরকার আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বোরো সংগ্রহের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত বোরো মৌসুমের ৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৯৩ টন সেদ্ধ চাল, ৫৮ হাজার ৭৪২ টন আতপ চাল ও ৩ লাখ ৪ হাজার ৩০০ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল ও ৫ লাখ টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম একই সঙ্গে চলে।

অর্থাৎ উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের কাছে ধান-চাল কেনার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার খাদ্য অধিদফতরের মাধ্যমে সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও বিপণন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ করে। ফলে এ মজুদের পরিমাণ সবসময় কম-বেশি হয়।

সরকারের মজুদ সন্তোষজনক হলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ কমে। ভোক্তারা কম দামে চাল কিনতে পারে। সরকারও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও বিপণন কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে দেয়, যার সুফল পায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষরা।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সবসময় একটা দেশের সরকারকে আপদকালীন মজুদ হিসেবে ১৫ দিনের খাবার রাখতে হয়, যা আমাদের হিসাবে সাড়ে ১৩ লাখ টন। আগে অনেক বছর এতটুকু মজুদও থাকত না। বর্তমানে মজুদ সাড়ে ২২ লাখ টন, যা খুব প্রশংসনীয়। এ অবস্থায় সরকারের বিতরণ কার্যক্রম গতি পাবে। আমদানির প্রয়োজন হবে না এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা থাকছে না। তিনি বলেন, দেশে বোরো উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকের ঘরে ঘরে খাবার আছে। এ কারণে বাজারে কোনো সংকট বা হাহাকার নেই।

দেশে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) খাদ্যশস্যের উৎপাদনের তথ্য এখনও সুনির্দিষ্ট হয়নি। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ টন। একই সময়ে গম উৎপাদন হয় ১০ লাখ ৪১ হাজার টন। দেশে চালের চাহিদা ৪ কোটি ১১ লাখ টন এবং গমের চাহিদা ৭৪ লাখ টন। এ হিসাবে দেশে চাল উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও গমের ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে।

সময়ের আলো



  বিষয়:   সরকারি  গুদাম  খাদ্যশস্য  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: