সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী র্যালি করার অপরাধে ইমাম হাসান নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা। গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আহত যুবকের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবিলগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবনের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল মিন্টু মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। এর প্রতিবাদে গত বুধবার বিকেলে ইমাম হাসানের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবসমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি বন্ধ করার জন্য কাবিলগঞ্জ এলাকার আলী আহম্মদের ছেলে মিন্টু মিয়া আগেই ইমাম হাসানকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই হুমকি উপেক্ষা করে র্যালিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মিন্টু ও তার সহযোগীরা।
বুধবার রাত দেড়টার দিকে, যখন ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা চলছিল, তখন একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছাদে খেলা দেখছিলেন ইমাম হাসানসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় মিন্টুর নেতৃত্বে তিশা মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, সজিব মিয়া, নেয়াব হোসেনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে চড়াও হয় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে ছাদে থাকা লোকজন ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করে পালিয়ে যান।
একপর্যায়ে ইমাম হাসানকে একা পেয়ে লোহার রড, হকিস্টিক, রামদা ও চাপাতি দিয়ে নির্বিচারে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। পেটানোর পর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তারা ইমাম হাসানের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।
ইমাম হাসানের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন জানান, মিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার ভাই এলাকার যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মিন্টু ও তার দলবল এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টুর মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এমনকি ক্ষুদে বার্তারও (এসএমএস) কোনো জবাব দেননি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে নিয়মিত মামলা রুজু করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই