আল-মান্নান : মহা অনুগ্রহশীল

তাহ্‌নিয়া ইসলাম খান

ইসলাম

আল-মান্নান হলেন সেই সত্তা, যিনি কোনো প্রতিদান বা কারণ ছাড়াই তাঁর সৃষ্টির প্রতি অশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত দান করেন। তিনিই

2026-07-17T12:32:39+00:00
2026-07-17T12:32:39+00:00
 
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
আল্লাহর গুণবাচক নাম
আল-মান্নান : মহা অনুগ্রহশীল
তাহ্‌নিয়া ইসলাম খান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আল-মান্নান হলেন সেই সত্তা, যিনি কোনো প্রতিদান বা কারণ ছাড়াই তাঁর সৃষ্টির প্রতি অশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত দান করেন। তিনিই একমাত্র পরম সত্তা, যাঁর কাছ থেকে সব ধরনের অনুগ্রহ ও রহমত উৎসারিত হয়। তিনি চাওয়ার আগেই দান করেন এবং আমাদের আশা ও আকাক্সক্ষার চেয়েও বেশি দান করেন। 

আল্লাহর নেয়ামত এত বেশি যে তা গণনা করাও সম্ভব নয়। তাঁর অনুগ্রহ অগণিত ও অসীম। কুরআনের অনেক আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের বিষয়টি প্রমাণিত। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতগুলো গুনতে চাও তা তোমরা গুনে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ১৮)

আল-মান্নান মানুষকে জীবন, বিবেক, বাকশক্তি দান করেছেন, সুন্দর আকার আকৃতি দান করেছেন, সুস্বাস্থ্য, সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা, ঈমান, বুদ্ধি ও রিজিকে প্রশস্ততা দান করে বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। যে দুঃখ-কষ্ট বান্দাকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়, সেটাও একটা নেয়ামত বা অনুগ্রহ। তিনি রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, এটা দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় নেয়ামত। 

সুরা আল ইমরানের ১৬৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন, যখন তাদের কাছে নিজস্ব একজনকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদের আল্লাহর আয়াত পড়ে শোনাচ্ছে, তাদের পরিশোধন করছে, তাদের কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) শিক্ষা দিচ্ছে, যদিও তারা আগে সুস্পষ্ট গোমরাহিতে ছিল।’

আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হলো চূড়ান্তভাবে জান্নাত পাওয়া। জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারা পরস্পরের কাছে এগিয়ে গিয়ে একে অপরকে বলবে, ‘আগে আমরা আমাদের পরিবারে (দুনিয়াবি নানা কারণে ও আখেরাতের আজাবের আশঙ্কায়) ভয়-ভীতির মধ্যে ছিলাম। অবশেষে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আর আমাদের ঝলসে দেওয়া বাতাসের আজাব থেকে রক্ষা করেছেন। আগে আমরা তাঁর কাছেই দোয়া করতাম, তিনি অতি অনুগ্রহকারী, পরম দয়াবান।’ (সুরা আত-তুর : ২৫-২৮)


আমাদের সামান্য কাজের বিনিময়ে এমন কিছু দেওয়া হয়, যা বর্ণনা করার মতো শব্দ কোনো ভাষায় নেই। পরকালে একজন ব্যক্তি যে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ লাভের আশা করে তা হলো তার পাপের ক্ষমা। সামান্য পরিমাণ হলেও এটা ঈমান এবং সৎকর্মের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। এর একটি উদাহরণ হলেন আমর ইবনে সাবিত (রা.)। তিনি উহুদের যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এক ওয়াক্ত সালাত আদায় না করেই সেখানে শহিদ হন। রাসুল (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেন যে, তিনি অল্প আমল করে অনেক বেশি প্রতিদান লাভ করেছেন এবং তিনি জান্নাতের অধিবাসী। আরেকটি উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তি, যে একশজনকে হত্যা করেছিল। আল্লাহ তার আন্তরিক তওবা দেখলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

এই জীবনে যেকোনো ব্যক্তির ওপর বর্ষিত সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হলো হেদায়েত, যা সব নেয়ামতের মূল নেয়ামত। যখন আল্লাহ প্রচুর পরিমাণ দানের কথা উল্লেখ করেন, তখন তিনি পরকাল সম্পর্কিত অনুগ্রহের কথাই বলেন। যখন আমরা আমাদের চারপাশের পৃথিবীর দিকে তাকাই, তখন আমরা উপলব্ধি করি যে পার্থিব বস্তুর দিক থেকে আল্লাহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বিভিন্ন জিনিস দিয়েছেন। যেমন কিছু মানুষ অত্যন্ত ধনী, উদার ও পরোপকারী, কিন্তু চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। পার্থিব সম্পদ থাকলেই যে অনেক কিছু পাওয়া হয়ে যায় তা নয়। হেদায়েত পেয়েছে কি না সেটাই আসল।

আল্লাহ চান যেন তাঁর বান্দারা তাঁর অনুগ্রহ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং সেটা উপলব্ধি করে। এটি মুমিনদের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সুরা হুজুরাতের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, লোকেরা মনে করে যে তারা ইসলাম কবুল করে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদের বলে দাও, তোমরা তোমাদের ইসলাম কবুলের দ্বারা আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করোনি বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তোমরা যদি (তোমাদের ঈমান আনার দাবিতে) সত্যবাদী হয়েই থাকো।

নিজের জীবনের মাঝে এই নামটির প্রভাব পেতে হলে কিছু কিছু ব্যাপার মেনে চলতে হবে। জাগতিক এবং মানসিক অনুগ্রহের জন্য আল-মান্নানের কাছে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। এমন অনেক অনুগ্রহ আছে যা আমরা কখনো কখনো তুচ্ছ মনে করি, মনে করি এসব অনুগ্রহ আমাদের প্রাপ্য। ধরা যাক হাত দিয়ে ভাত মেখে খাওয়ার কথা- যে সবসময় হাত দিয়ে ভাত মেখে খায়, অসুস্থতার কারণে তার যখন হাত অবশ হয়ে যায়, তখনই সে বুঝতে পারে নিজ হাতে ভাত মেখে খাওয়াটা কত বড় নেয়ামত।

আমাদের দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হলো আধ্যাত্মিক উপহার। এই পৃথিবীতে সম্পদের সঙ্গে মনের শান্তি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে এবং পরিশেষে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে যে আমরা আমাদের সম্পদ কীসের পেছনে ব্যয় করেছি। কিন্তু আল্লাহর নৈকট্যের উপহারগুলোই
প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে মূল্যবান। এই নেয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা করা আল্লাহর প্রতি আমাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি করার অন্যতম একটি উপায়।

আল-মান্নানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অন্যতম একটি উপহার হলেন রাসুল (সা.)। রাসুল (সা.)-এর চরিত্র থেকে শিক্ষা নিন এবং তাঁর সিরাত (জীবনী) অধ্যয়ন করে বুঝুন, কেন আল্লাহ আমাদের বলেছেন যে রাসুল (সা.)-কে সর্বোচ্চ সত্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অনুগ্রহস্বরূপ দান করা হয়েছিল। যখন আপনি দান করেন, তখন মনে রাখবেন যে আপনার উদ্দেশ্য আল্লাহর জন্য এবং আপনি মানুষের জন্য যা করেছেন তা তাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন না, অর্থাৎ দান করে খোঁটা দেবেন না। 

আল্লাহ আমাদের বলেন, ‘তোমরা স্মরণ করিয়ে দেওয়া বা কষ্ট দেওয়ার দ্বারা তোমাদের দানকে নিষ্ফল করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৬৪) আল্লাহকে ‘আল-মান্নান’ হিসেবে স্মরণ করা এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর অঢেল অনুগ্রহ ও উদারতা নিয়ে চিন্তা করা আমাদের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করাকে আমাদের ওপর অপরিহার্য করে তোলে। 

অনুগ্রহকারী তিনিই, যিনি চাওয়ার আগেই দান করেন। এই দুনিয়ায় ও পরকালে সব প্রশংসা আমাদের রবেরই প্রাপ্য। রাসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়ায় এই নামটির উল্লেখ করতে শুনে বলেছিলেন যে, সে আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নাম ধরে দোয়া করেছে, যে নামে চাইলে তিনি কবুল করেন এবং কোনো কিছু প্রার্থনা করলে তা দান করেন। আমরাও এই নাম উল্লেখ করে দোয়া করতে পারি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   আল-মান্নান মহা অনুগ্রহশীল  আল্লাহ  গুণবাচক নাম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: