ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিন ধরে অনশনে থাকা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পর অনশনস্থলে আন্দোলনরত অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে জায়গাটি খালি করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ও বাধার মাঝেই সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এবং ওয়াংচুকের দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের সময় কিছু বিক্ষোভকারী বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, বর্তমানে ওয়াংচুক সচেতন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা গত ২৯ দিন ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের এই দাবির সমর্থনে গত ২১ দিন আগে অনশন শুরু করেছিলেন ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক।
গত দুদিন আগেই দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় ‘যা যা প্রয়োজন তা-ই’ করতে হবে। গতকাল শুক্রবার চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘদিনের অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো অকেজো (অর্গান ফেইলিওর) হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন ‘জরুরি’ রূপ নিয়েছে। মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, অনশনের কারণে ইতিমধ্যে তার ওজন প্রায় সাড়ে ৯ কেজি কমে গেছে।
সময়ের আলো/কহু