ইউক্রেনের ড্রোন অভিযানে রাশিয়া থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ক্রিমিয়া

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনীয় বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক ড্রোন অভিযানের মুখে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। জল ও

2026-07-18T10:11:53+00:00
2026-07-18T10:11:53+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনের ড্রোন অভিযানে রাশিয়া থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ক্রিমিয়া
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক ড্রোন অভিযানের মুখে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। জল ও আকাশপথে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে মূল রুশ ভূখণ্ড থেকে ক্রিমিয়া কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপদ্বীপটির মস্কো-নিযুক্ত প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ক্রেমলিনের নানা ভর্তুকি সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তারা জানাতে পারছে না।

শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ জুলাই থেকে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী ‘অপারেশন মলোচকা’ নামের একটি বিশেষ নৌ-অভিযান শুরু করে। ইউক্রেনের ড্রোন ফোর্সের কমান্ডার রবার্ট ‘মাদিয়ার’ ব্রোভদি জানিয়েছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’ ধ্বংস করে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা। ৬ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনী রাশিয়ার ১৫৯টি ছোট-বড় ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজ অকেজো করে দিয়েছে, যার মধ্যে ১১৭টি আজভ সাগরে এবং ৪২টি কৃষ্ণসাগরে আক্রান্ত হয়। এর ফলে আজভ সাগর ও কের্চ প্রণালী দিয়ে ক্রিমিয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

ক্রিমিয়ার রুশ গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ উপদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির কথা স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতিদিনের জ্বালানি বিক্রির নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। এই সংকট আরও কিছুদিন স্থায়ী হবে।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সাধারণ পরিবারগুলোর মাঝে বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার ও জেনারেটর বিতরণ করছেন এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্রিমিয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় (ব্ল্যাকআউট) শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রিমিয়ার ‘সাকি’ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগকারী মূল ‘কুবান-ক্রিমিয়া’ পাওয়ার গ্রিড সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে পুরো উপদ্বীপ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং স্ট্রিট লাইট পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ইউক্রেনের এই ড্রোন যুদ্ধ শুধু ক্রিমিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভেতরের বড় বড় তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহেও রাশিয়ার ক্রাসনোদার, রোস্তভ, সামারা এবং ১,২০০ কিলোমিটার দূরের বাশকর্তোস্তানের বেশ কয়েকটি শোধনাগারে সফল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকও স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার আংশিক অকেজো হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার বর্তমান পেট্রোল উৎপাদন মৌসুমি চাহিদার মাত্র দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে, যার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারেও তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই তারা রাশিয়ার ভেতরের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে ৭,০২৮টি সফল মধ্যমপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছেন, যার মধ্যে মে ও জুন মাসেই চালানো হয়েছে সিংহভাগ হামলা। এই অভিযানের ফলে রাশিয়ার প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ডলারের (৬১০ কোটি ডলার) সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। তবে সিরস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত মোড় পরিবর্তন হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি।


সময়ের আলো/কহু
  বিষয়:   সময়ের আলো  রাশিয়া  ইউক্রেন  ক্রিমিয়া 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: