আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ’ ঘোষণা করার পর থেকে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি চৌকি, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং নৌ সক্ষমতা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ফাইটার জেট, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ এই অভিযানে অংশ নেয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে বন্দর আব্বাস বন্দর, কিশম দ্বীপ এবং মধ্যাঞ্চলীয় ইয়াজদ শহরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর মাইন পুঁতে রাখা অংশ পার হওয়ার সময় দুটি তেল ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে মার্কিন সেন্টকম এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাতের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছে এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাও আহত হয়েছেন।
ইরানের দাবি, মার্কিন হামলায় তাদের সাধারণ সেতু, ট্রেন স্টেশন ও বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং হরমুজগান প্রদেশে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি পার্সিয়ান ওই অঞ্চলের 'গারিভেহ সেতু' ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্র যাচাই করে এর সত্যতা পেয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানছে।
সময়ের আলো/কহু