সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের রাসেল মিয়া নামে যুবক সৌদি আরবে বজ্রপাতে মারা যান। মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিশ্রুত সরকারি সহায়তা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও ৪ সন্তান এখন চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ সৌদি আরবের কর্মস্থলে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান রাসেল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা একটি ঘরে বসবাস করছেন রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। অনেক দিন একবেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। অভাবের কারণে সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে মাকেও হারান শাহানাজ। অসুস্থ শরীর ও সন্তানদের নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
রাসেলের বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার ও স্থানীয়রা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারও জোগাড় করা সম্ভব হয় না।
রাসেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে কিছু খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও অনুদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহানাজ বলেন, ‘স্বামী চলে গেছে, এরপর মাও মারা গেলেন। আমার মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। ৪টা সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।’
প্রতিবেশী আবু রায়হান বলেন, ‘পরিবারটি বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে।’
তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদফতর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, ‘৪ টি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু এককালীন সহায়তা নয়, পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি।
সময়ের আলো/মহু