ক্রস বর্ডার এডুকেশন ওপেন করতে চাই : আ ন ম এহছানুল হক মিলন

রফিক রাফি

মতামত

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১-২০০৫ মেয়াদে

2026-07-22T01:42:01+00:00
2026-07-22T01:42:01+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
মতামত
সাক্ষাৎকার
ক্রস বর্ডার এডুকেশন ওপেন করতে চাই : আ ন ম এহছানুল হক মিলন
রফিক রাফি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৪২ এএম 
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংগৃহীত ছবি
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১-২০০৫ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রোববার সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি, প্রশ্নফাঁস রোধ, শিক্ষক নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, তৃতীয় ভাষা, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেন, মাদরাসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি। 


সময়ের আলো : প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ে নজর রাখেন। তো আপনার মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরামর্শ কেমন পাচ্ছেন?

শিক্ষামন্ত্রী : আমার মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে প্রিয়। তিনি সবসময় খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং এ মন্ত্রণালয়ের জন্য সর্বাধিক বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার দেয়নি। আগামীতে এটি আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় কোনো ডিপার্টমেন্ট থাকলে সেটি হচ্ছে শিক্ষা।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজিটাই তো ঠিকমতো শিক্ষার্থীরা শেখে না। তৃতীয় ভাষা শেখানোর জন্য ট্রেইনার, টিচারসহ দীর্ঘ সময় দরকার। এটি আসলে কীভাবে বাস্তবায়নটা করবেন?

বাংলা মিডিয়ামে পড়লে বাংলা ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ, ইংলিশ সেকেন্ড। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে ইংলিশ ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ, বাংলা সেকেন্ড। আর তৃতীয় ভাষা, এটি মূলত শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে শিখবে। তৃতীয় ভাষা হবে তার ওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেমন কেউ ফ্রান্সে গেলে ফ্রেঞ্চ, কোরিয়া গেলে কোরিয়ান ভাষা শিখবে। আমাদের দেশে শিখন পদ্ধতির দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিও ঠিকমতো রপ্ত করতে পারছে না।

এইচএসসি পরীক্ষার একটি বিষয়ের দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যারা প্রশ্নের উত্তরই দেয়নি তারাও কি নম্বর পাবে?

আমরা বিষয়টা নিয়ে এখনও বিশ্লেষণমূলক কোনো চিন্তা করিনি। এক্সপার্টদের সঙ্গে বসতে হবে। 

প্রশ্নপত্রে এমন ভুলকে কীভাবে দেখছেন, প্রশ্নকর্তাদের আরও প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না?

প্রশ্নকর্তা অস্বাভাবিক উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিব্রত করে ফেলেছেন। এটি অতিচালাকি হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত একজন শিক্ষক প্রশ্ন করতে ভুল করবেন, এটি মেনে নেওয়া যায় না। তারা বলছেন, টেকনিক্যালি নট রং, কিন্তু এমন প্রশ্ন করাই উচিত হয়নি। কেন এসব চতুরামিতে যেতে হবে? প্রতিটি জিনিসে তো মন্ত্রীর পক্ষে ওভাবে নজর দেওয়া সম্ভব নয়। এগুলোর জন্য তো নির্ধারিত ট্রেইন লোক রয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পলিসি মেকার, তাকে ওপেন করতে চাই

কোশ্চেন পর্যন্ত দেখতে হবে, তা হলে অন্যরা কী করেন? সবাই মিলে কি এই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য রেডি? তা না হলে ওই শিক্ষক এই প্রশ্নটা করলেন কেন? এ ছাড়াও কিছু ঘটনা ঘটেছে, ঘটছে, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, ক্লাসরুমে পড়াচ্ছেন, সেসব শিক্ষক প্রশ্ন তৈরি করছেন। কীভাবে প্রশ্ন তৈরি করতে হয়, এ জন্য পদ্ধতিগতভাবে তাদের ট্রেনিং হয়। এর পরেও যখন শিক্ষকরা এই ধরনের আচরণ করছেন, তখন আগামী দিনে আরও ট্রেনিং দিতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

প্রশ্নপত্র ফাঁস বিগত দিনে অনেক দেখা গেছে। আপনিও দেখেছেন, প্রত্যেক বছর হয়েছে, এবার তো এখন পর্যন্ত হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতে নতুন করে প্রশ্ন ছাপানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আগেও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, এবার শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর শিক্ষা খাতে কোন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন? মূলত শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। ইন্টারন্যাশনালি যে মডার্ন এডুকেশন পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোর দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের যে গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা সেটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী- দুদিকেই দুর্বলতা রয়ে গেছে। এ দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে মডার্ন এডুকেশনে দৃষ্টি দিতে হবে।

এটি কি রাতারাতি সম্ভব?

না, শিক্ষা কখনোই রাতারাতি অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষা একটি অদৃশ্য সম্পদ, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যেমন বাংলাদেশের মাটির নিচে বা বঙ্গোপসাগরে গ্যাস ও তেলের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। কিন্তু সেগুলো উত্তোলন না করা পর্যন্ত আমাদের কোনো কাজে আসে না। শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। মানুষকে শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলেই সেই শিক্ষা দেশের সম্পদে পরিণত হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ। আর এ মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। তাই মানবসম্পদকে দেশের উন্নয়নের শক্তিতে পরিণত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চাইছেন, যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত, তাই পরিবর্তনটা ধীরে ধীরে আসুক।

আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেটি তো আগে ঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। একটি কারিকুলাম, কোর্স ও সিলেবাস দেওয়া থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই সিলেবাস শেষ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ জন্য একটি একাডেমিক ক্যালেন্ডারও থাকে, যা অনুসরণ করে পাঠদান ও মূল্যায়নের কথা।

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি নির্ধারিত ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই ব্যবস্থাটি নিয়মিত ও সঠিকভাবে অনুসরণ করছি? বাস্তবতা হলো, করছি না। নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে লেখাপড়ার যে পদ্ধতি থাকার কথা, সেটিই আমরা পুরোপুরি চর্চা করতে পারছি না।

শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কী ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন?

প্রথমত আমাদের বর্তমান যে পদ্ধতি রয়েছে সেটিকে রিভিউ করা এবং তার দুর্বলতাগুলো নিরসন করা এবং ক্লাসরুমে পার্টিসিপেন্ট বাড়ানো, ক্লাসরুম এডুকেশন বাড়ানো। প্যারালালি প্র্যাক্টিক্যাল লার্নিং এবং টিচার্স ট্রেনিং- এগুলো। কিন্তু এই জায়গায় আমাদের ক্যাপাসিটিটা কম। এখন প্রত্যেক শিক্ষককে তো একসঙ্গে ট্রেনিং দেওয়া যায় না।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

যে কারিকুলামে এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে সেটিকে মডার্নাইজ করতে হবে। সেটি আমরা ২০২৮-এর দিকে গিয়ে করব। এ মুহূর্তে আপনি এসেই তো কারিকুলাম চেঞ্জ করতে পারবেন না। যে সিলেবাস ছিল, যে কারিকুলাম ছিল এখন আমরা শুধু পরিমার্জন করে সেটির ওপর এক্সামিনেশন নিচ্ছি।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সুফল পাচ্ছেন কি?

আগে যোগসাজশে সবকিছু হতো। অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় এখন সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আগামীতে সব পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে পরিকল্পনা কী?

এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট হওয়ার এক মাসের মধ্যেই কলেজে ভর্তি হতে হবে। এইচএসসি পাস করার দুই মাসের মধ্যে ইউনিভার্সিটি ভর্তি হতে হবে। এটিকে সিনক্রোনাইজ করব। দশ বছরের লেখাপড়া ১০ বছরেই শেষ হতে হবে। দুই বছরের ইন্টারমিডিয়েট দুই বছরে এবং চার বছরের অনার্স চার বছরেই শেষ হতে হবে। এ জন্য পরীক্ষা আস্তে আস্তে এগিয়ে নিয়ে আসছি। আগামী বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ২ জুন শুরু হবে। কারণ জুলাইয়ে বন্যার আশঙ্কা থাকে। এতে সেশনজটও কমে আসবে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা আছে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা কী?

এটি বিশাল সমস্যা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার আমলে কেন শিক্ষক নিয়োগ দিল না জানি না। ২০১৭ সালে প্রাথমিক স্কুলে ৩২ হাজার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরে চলতি বছরের ২ জুলাই আমি এটি ভ্যাকেন্ট করি। আমি ৭ আগস্টের ভেতরে এই ৩২ হাজার শিক্ষককে পদোন্নতি দেব হেড মাস্টার হিসেবে। তারপরে আমাকে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিতে হবে। 


চিন্তা করুন সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫২৯টি সরকারি হাই স্কুলের মধ্যে ৩৮ হাজার স্কুলেই হেড মাস্টার নেই। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার হিসেবে ঢুকেছেন। সেভাবেই তাকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। একইভাবে টেকনিক্যাল এডুকেশন, গভর্মেন্ট হাই স্কুল, কলেজ এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষক শর্ট আছে ৭৭ হাজার।

এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী?

শিক্ষা ক্ষেত্রে এ দাবিগুলো কখনোই থাকার কথা নয়। একটি এলাকার ডেমোগ্রাফিক-জিওগ্রাফিক লোকেশন অনুযায়ী ম্যাপিং করে আমরা স্কুল দিই। এর বাইরে অযাচিত স্কুল-কলেজ-মাদরাসা দেওয়া কখনো উচিত নয়। অনেকেই মনে করে, তার নিজের নামে, মা-বাবার নামে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করবে, অসুবিধা নেই। আমরা তাকে নিয়মের মধ্যেই নাম ট্রান্সফার করে দিতে পারি। তিনি যে টাকায় নতুন স্কুল করতে চাচ্ছেন, সেটি নাম পরিবর্তন করেই তো করতে পারেন। বিগত বছরগুলোতে অনেক অযাচিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আমাদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুমোদনবিহীন কিন্ডার গার্টেন ও মাদরাসা নিয়ে পরিকল্পনা কী?

একাডেমিক কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয়। তবে এগুলো অবশ্যই একটা নিয়মনীতির আওতায় আনতে হবে। তা হলে অযাচিত প্রতিষ্ঠান হবে না। সরকারের খামোখা এক্সপেন্ডিচারও বাড়বে না, সেশনজটও বাড়বে না।

গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা গড়ে তুলতে আপনার পরিকল্পনাটা কী?

সেই জায়গাটিতেই বর্তমান সরকার ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা ইউনিভার্সিটিগুলোর গবেষণ স্ট্রং করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেমন বগুড়া ইউনিভার্সিটি ইউরোপ-আমেরিকার আদলে হচ্ছে।

এআই ব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি স্কিলড করতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

জেনারেশন ন্যাচারালাইজেশন, ন্যানো টেকনোলজিকে আমাদের এমফেসাইজ করতে হবে। এ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করতে হবে। ডিজিটাল শিক্ষায় জোর দিতে হবে।

শিক্ষা খাতের দুর্নীতি আর অনিয়ম বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেবেন কি না?

এটিই আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। আমি মন্ত্রী হওয়ার পর এই যাবত চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, একটিও বদলি বাণিজ্য হয়নি। একজন এসে বলুক, তিনি টাকা দিয়ে বদলি হয়েছেন, কাকে দিয়েছেন? কোথায় দিয়েছেন? আমরা অনেক নেতার অনুরোধে যাচাই-বাছাই করে বদলি করি। সেটি নেতারা নিজস্ব এলাকায় জন্য অনুরোধ করেন। আর অবকাঠামো খাতে টেন্ডার হয়। সেটি সরকারি রেটের সবচেয়ে কম রেটে। একজন কন্ট্রাক্টরি করে, সে তো কিছু লাভ করবে।

শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি?

প্রফুল্লচিত্তে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করবে। সে জন্য বর্তমান সরকার আনন্দময় শিক্ষা, শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

ওয়েল, যাত্রা আমাদের শুরু হয়েছে। আমি আশা করছি পাঁচ বছর আমরা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে চলে যাব, যেন বাইরের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে আসে। আমরা এখন ক্রস বর্ডার এডুকেশনটাকে ওপেন করতে চেষ্টা করছি। যেন আমাদের দেশের ছেলেদের বিদেশ না যেতে হয়। কিছু কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ক্যাম্পাস করতে চাচ্ছে। আমরা তাদের কাছ থেকে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আনব, ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং স্টুডেন্ট আমরা দেব। দুই বছর বাংলাদেশে পড়বে, দুই বছর জাপানে বা ইংল্যান্ডে বা অস্ট্রেলিয়ায় পড়বে। শিক্ষার্থী না থাকায় জাপানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 

অথচ আমাদের দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। এটিকে আমাদের ক্যাশ করতে হবে, এটিই আমাদের মিনারেলস, এটিই আমাদের ভবিষ্যৎ। এই জায়গায় আমাদের অ্যাডজাস্ট করতে হবে, টেকনোলজিকাল ইনোভেটিভ এডুকেশনের সঙ্গে। সেটি করতে পারলে আর রিভার্স ব্রেইন ড্রেন যদি বন্ধ করতে পারি তা হলেই আমাদের দেশ চলতে শুরু করবে। কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কী বলবেন?

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, তাদের সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে তার সন্তানের শিক্ষা। এই যে পরীক্ষা পেছানোর জন্য আন্দোলন হয়েছে এটির কতটুকু যৌক্তিক প্রয়োজন রয়েছে, এটি অভিভাবক-শিক্ষক-ছাত্র মিলে কনসাল্ট করতে হবে। পরীক্ষার যে তারিখ দেওয়া হয়, সেটি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে দিই। অভিভাবকদের প্রতি আবেদন থাকবে, আপনার সন্তানরা শুধু আপনার ভবিষ্যৎ নয়, জাতিরও ভবিষ্যৎ। অতএব এটিকে হেলাফেলা করলে চলবে না।

প্রতিবন্ধী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা আছে কি?

এটি তাদের কনস্টিটিউশনাল রাইটস। আমরা তাদের নার্সিং করতে হবে। তারা আমাদের দেশের সম্পদ এবং তাদের কাজে লাগাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের বাজেটের কোনো ঘাটতি নেই। বাট এই প্রতিবন্ধীদের শেখানোর যে টেকনোলজি, এটির দাম অনেক। তবু এটিকে গুরুত্ব দিতেই হবে।

শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় কীভাবে করবেন?

ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একাডেমিক সংযোগ হবে। ইন্ডাস্ট্রির ডিমান্ড অনুযায়ী আমাদের শিক্ষার্থীদের এডুকেট করতে হবে। আমাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

সময়ের আলো/ প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   ক্রস বর্ডার  এডুকেশন  ওপেন  আ ন ম এহছানুল হক মিলন 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: