ইরান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তার অভিযোগ, সংকট অবসানে তেহরান মোটেও আন্তরিক নয়। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হুমকির মুখে এশিয়ামুখী সৌদি আরবের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকেই পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন ‘আসিয়ান’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এসব কথা বলেন রুবিও।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। কিন্তু বর্তমান প্রধান সমস্যা হলো তেহরান আলোচনার বিষয়ে কোনো আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। তারা যদি আন্তরিক হয়, তবে আমরাও প্রস্তুত। আর যদি তা না হয়, তবে আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যা করার, তা-ই করা হবে।
মার্কো রুবিও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানকে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া যাবে না। এতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়ে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই হুমকির পর চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি বিশাল ট্যাংকার লোহিত সাগরে ইউ-টার্ন নিয়ে সুয়েজ খালের দিকে ঘুরে গেছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করছিল রিয়াদ। তবে হুথিদের হুমকির মুখে সেই পথও বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই সামরিক সংঘাত আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় শহর চাবাহার, কোনারক এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন বুশেহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ