প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা একযোগে আমাকে ঘায়েল করতে উঠেপড়ে লাগলো! তারা মনে করলো, আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করলে হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিবে! তাই বেশ জোর দিয়ে জনসভা থেকে ভাষণ দেওয়াও শুরু করলো! কিন্তু প্রকৃতির কি খেলা, এখন তারা নিজেদের ইজ্জত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এনসিপির সমালোচনা করে তিনি লেখেন, এনসিপির মত তরুণ একটি দলের নেতাদের আচার-আচরণ জামায়াতের নেতাকর্মীদের মতোই হবে, এটা প্রত্যাশিত ছিলো না। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে তারা জামায়াতকেও হার মানিয়েছে। জামায়াতের ভণ্ড এমপির বিরুদ্ধে তাদের কোনো বক্তব্য নাই, বরং তার পক্ষে শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছে! নতুন বন্দোবস্তের এই লজ্জা রাখি কোথায়?
জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, চারিদিকে যে অবস্থা শুরু হয়েছে, এখন জামায়াত যদি তার এই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই দায় নিয়ে জামায়াতের পক্ষে জনসম্মুখে মুখ দেখানো কঠিন হয়ে যাবে। উপায় একটাই, এই এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করা। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কার হলে তো তার এমপি পদ চলে যাবে! আর এ কারণে লোকদেখানো শোকজ নোটিশ দিয়ে আইওয়াশ করার অপচেষ্টা করতে পারে জামায়াত। কিন্তু এতেও মনে হয়না কোনো লাভ হবে...
দলটির সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, তড়িঘড়ি করে বড় হওয়ার চেষ্টার কারণে জামায়াত এখন অনেকটা আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েছে। আর এ কারণেই একের পর এক এক্সক্লুসিভ বিতর্ক। আদর্শচ্যুত এই জামায়াতের সামনে যা দেখবেন, শুধু লস আর লোকসান! ওরা ১১ জন মিলে বিএনপিকে ওয়াশ আউট করতে এসে এখন তো সব দেউলিয়া হয়ে মাঠ ছাড়ছে...
সময়ের আলো/কেএইচ