খাল খননে সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২২ লাখ টাকা ফেরত

নাটোর প্রতিনিধি

সারাদেশ

নাটোর জেলার চার উপজেলায় সাতটি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ২১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। খননকাজ শেষে এই

2026-07-23T09:48:42+00:00
2026-07-23T09:48:42+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
খাল খননে সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২২ লাখ টাকা ফেরত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৮ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
নাটোর জেলার চার উপজেলায় সাতটি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ২১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। খননকাজ শেষে এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে মোট ১১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতটি খাল খননের জন্য মোট ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার টাকা। ফলে উদ্বৃত্ত ২১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে খাল খনন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রশ্ন ও বিতর্কও রয়েছে। এর মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল পুনঃখনন নিয়ে উঠেছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা। তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খননে ব্যয় ধরা হয়েছে আগের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।

জানা যায়, ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মির্জা মামুদ খালটি বর্তমানে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অথচ এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) একই খালের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করেছিল।

বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, দুইটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ২০২২ সালে খালের ৪ কিলোমিটার অংশ খনন করা হয়। প্রথম কার্যাদেশে ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় কার্যাদেশে ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার খননে ব্যয় হয় ৩৪ লাখ টাকা। ওই সময় খননের মাধ্যমে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয় এবং খালের গভীরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফুট।

বড়াইগ্রাম বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে খননের পর মির্জা মামুদ খালে নাব্যতা ফিরে আসে। বর্তমানে খালের পানি কৃষকরা সেচসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। তার মতে, খালটি এখন পুনরায় খননের প্রয়োজন ছিল না।

তবে পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, নন্দকুঁজা নদীর অংশ থেকে মরা বড়াল নদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে চার ফুট গভীর এবং তলার প্রস্থ ছয় ফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।

নাটোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, মির্জা মামুদ খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এদিকে জেলার অন্যান্য খাল খনন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। লালপুর উপজেলার খলিশাডাঙ্গা খাল খননে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। চন্দনা খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

বাগাতিপাড়া উপজেলায় ডুমরাই থেকে বড়াল নদ পর্যন্ত ১ দশমিক ০৫ কিলোমিটার খাল খননে ২৭ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে ২৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। পুকুরপাড় থেকে বড়াল নদীগামী ১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খাল খননে বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ ৪ হাজার টাকা।

গুরুদাসপুর উপজেলার শিধুলী খাল থেকে আইরমারী ব্রিজ পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খাল খননে বরাদ্দ ছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ৫১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। নাটোর সদর উপজেলার ভাতুরিয়া খাল খননে ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

সবচেয়ে বেশি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে নাটোর সদর উপজেলার হেলেঞ্চা খাল খননে। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এতে সাশ্রয় হয়েছে ২০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

ভাতুরিয়া খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও হালসা ইউনিয়নের প্রশাসক মঞ্জিরা পারভীন বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি নিয়মিত তদারকি করেছে। গুণগতমান বজায় রেখেই খাল খনন করা হয়েছে।


স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ভাতুরিয়া খাল গভীর হওয়ায় এতে পর্যাপ্ত পানি থাকবে। এই পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, মূলত এক্সকাভেটরের মাধ্যমে খাল খনন করা হয়েছে। খালের পাড় বাঁধাই, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য কাজে শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। শ্রমিক সংকটের কারণে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা বলেন, নিবিড় তদারকি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে নির্ধারিত অর্থের মধ্যে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বরাদ্দের ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বিপরীতে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং অব্যবহৃত ২১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মির্জা মামুদ খাল পুনঃখনন উদ্বোধনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আগের সরকারের সময়ে খাল খননের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নতুন করে খননকাজে কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, তা মনিটরিং করা হবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   খাল খনন  সাশ্রয়  রাষ্ট্রীয় কোষাগার  ২২ লাখ টাকা  ফেরত  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: