নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে বিলম্ব করায় কেন্দ্র সরকার ও ক্ষমতাসীন বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছেন তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাই। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘বুক ফেটে কাঁদতে রাজপথে নেমেছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক এই আইপিএস কর্মকর্তা বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো— আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের এত সময় লাগল কেন? পরিস্থিতি একদম চরম পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত কেন গঠনমূলক আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হলো? কিসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আপনারা?
আন্নামালাই উল্লেখ করেন, নিট পরীক্ষার মাধ্যমে সারাদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তির ক্ষেত্রে সমতা আসে এবং অনগ্রসর পরিবারের শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পায়। তবে গত পাঁচ বছরে তিনবার নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বারবার এই জটিল প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছে।
এদিকে নিট বিতর্ক নিয়ে মোদী সরকারকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত এক দশকে অন্তত ১৫২ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি শিক্ষার্থীর জীবন প্রভাবিত করেছে।
অন্যদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সরকার সত্য প্রকাশ করবে।
এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আট ঘণ্টা আলোচনা করতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করতে বাধা কোথায়?
অন্যদিকে, আন্দোলন পরিচালনাকারী ককবোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমরা কারও বাড়ি বা অফিসে যাব না। যন্তর মন্তরেই জনতার দরবার চলছে, মন্ত্রীদের কথা বলতে হলে এখানেই আসতে হবে। অর্থহীন আলোচনার নামে ডাকলে আমরা যাব না।
সময়ের আলো/কেএইচ