মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদারে একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে সুন্দর পিচাইকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প রসিকতা করে তাকে ‘মনস্টার’ বা ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন। প্রযুক্তি খাতে পিচাইয়ের প্রভাব ও সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই লোকটি একজন দানব, কিন্তু এটা কেউ জানে না।’
চুক্তি প্রসঙ্গে পিচাই জানান, এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠিত করপোরেট গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অনুসরণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যেভাবে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সুপারইন্টেলিজেন্স উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরীক্ষিত পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
মার্ক জাকারবার্গ জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন নীতি ও অঙ্গীকার রয়েছে। এআই ব্যবস্থার ওপর একাধিক স্তরে নজরদারি রাখা হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মূল্যায়ন, স্বাধীন বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অডিট এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের স্বাধীন পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।
এদিকে, ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এর অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। তবে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থক ও সমালোচক— উভয় পক্ষের মধ্যেই আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ডেটা সেন্টার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি নিজের রিয়েল এস্টেট অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব ভবনের কিছু দেখতে অসাধারণ। তাঁর ভাষায়, ভবনগুলো বড়, শক্তিশালী ও সক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি একটি এলাকার জন্যও বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ