সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সাক্ষ্য দিতে তলব করা হয়েছে এমন খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
বুধবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে এএফএ জানায়, ক্লদিও তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কোনো সমন জারি করেনি। তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়নি, এমনকি তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়নি।
তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে, একটি তৃতীয় পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। ওই ব্যক্তি কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য বা সাক্ষ্য দিতে পারেন, যাদের মধ্যে এএফএর কর্মকর্তারাও থাকতে পারেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে আর্জেন্টিনার কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে আর্জেন্টিনা দলের চার্টার ফ্লাইটে ওঠার আগে এফবিআই এজেন্টরা তাপিয়া ও তোভিগিনোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাপিয়ার ইলেকট্রনিক ডিভাইস চেয়ে বসেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে আরও দাবি করে, এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে তদন্ত করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে অর্থপাচার-সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে পরিচালিত অভিযানের পর থেকেই এসব আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে রয়টার্স জানায়, আর্জেন্টিনা দল বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাপিয়া ও তোভিগিনোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ফেডারেল এজেন্টরা। তবে এ বিষয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি পোর্ট অথরিটি কোনো মন্তব্য না করে এফবিআইয়ের দিকে দায়িত্ব ঠেলে দেয়। এফবিআইও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এএফএ তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে তাপিয়া বা তোভিগিনোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আইনি ব্যবস্থা, আদালতে হাজিরার নির্দেশ কিংবা সম্পত্তি জব্দের আদেশ নেই।
সংস্থাটির ভাষ্য, ক্লদিও তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাক্ষ্য দিতে তলব করেছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার দাবিও সত্য নয়।
এএফএ আরও জানায়, আলোচিত নথিতে সভাপতি বা কোষাধ্যক্ষের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি এবং তাদের সম্পত্তি জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার কোনো নির্দেশও নেই।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এএফএর অস্বীকৃতি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন