দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতার পর্দা উঠবে, ৪ অক্টোবর শেষ হবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞের।
প্রতি আসরের ন্যায় এবারও অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সব মিলিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ২৬০ সদস্যের এক বিশাল কন্টিনজেন্ট। এর মধ্যে পুরুষ অ্যাথলেট ৯০ জন, নারী অ্যাথলেট ৯৭ জন। সঙ্গে থাকছেন ৬১ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী কর্মকর্তা। এখানেই বহরের সমাপ্তি নয়। আরও অর্ধশতাধিক যাচ্ছে বিভিন্ন পরিচয়ে। এরা অবশ্য নিজ খরচে যাচ্ছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই গণমাধ্যমকে জানান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি এবং এশিয়ান গেমসে দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.)।
গেমসে ডেপুটি শেফ দ্য মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিওএর সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির। বিশাল বহরের লক্ষ্য কিন্তু ছোট। মাত্র চারটি ইভেন্টে এবার পদকের প্রত্যাশা করছে বিওএ। ইভেন্টগুলো হলো আরচারি, ক্রিকেট, শুটিং এবং কাবাডি। বিশাল বহর এবং লক্ষ্য প্রসঙ্গে মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) বলেন, শুধু পদক নয়, বড় আসরে অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য ক্রীড়াবিদ তৈরি করাও এবারের অন্যতম লক্ষ্য। তারপরও নাকি আরচারি, ক্রিকেট, শুটিং ও কাবাডিতে পদক জেতার আশা করছেন বিওএর কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানাও উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলগুলোর একটি যাচ্ছে ক্রিকেট ও হকি থেকে। ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৩০ খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকছেন ১১ কর্মকর্তা। হকিতে পুরুষ ও নারী দলের ৩৬ খেলোয়াড়ের সঙ্গে রয়েছেন ৯ কর্মকর্তা। নারী ফুটবল দলে থাকছেন ২৩ খেলোয়াড় এবং সাত কর্মকর্তা। কাবাডিতে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ২৪ খেলোয়াড়, সঙ্গে ছয় কর্মকর্তা।
আরচারিতে ১২ খেলোয়াড় ও চার কর্মকর্তা নিয়ে ১৬ সদস্যের দল যাচ্ছে। এ ছাড়া শুটিংয়ে ১২ খেলোয়াড়ের সঙ্গে চার কর্মকর্তা, ব্যাডমিন্টনে পাঁচ খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, টেবিল টেনিসে ছয় খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, ভারোত্তোলনে চার খেলোয়াড় ও তিন কর্মকর্তা এবং উশুতে চার খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা থাকছেন। সার্ফিংয়ে পুরুষ ও নারী একজন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন কর্মকর্তা থাকছেন। সাঁতারে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, অ্যাথলেটিকসে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা এবং বক্সিংয়ে দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে তিন কর্মকর্তা যাচ্ছেন।
এবারের আসরে বাংলাদেশের আটটি ডিসিপ্লিনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি ক্রুজ শিপে। আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, রেসলিং, টেবিল টেনিস ও উশুর সদস্যরা সেখানে থাকবেন। অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর আবাসন করা হয়েছে বিভিন্ন হোটেল বা রিসোর্টে। তবে কোন দল কোথায় থাকবে, তার বিস্তারিত চিত্র বাংলাদেশ দল সেখানে পৌঁছানোর পরই পুরোপুরি নিশ্চিত হবে।
বিওএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৬৫ জন কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল অংশ নিতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ৪৫ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। যাদের পরদিন খেলা রয়েছে, তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কারণ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উদ্বোধনী মার্চপাস্টে লাল-সবুজের পতাকা থাকবে শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরার হাতে।
কন্টিনজেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিওএর সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) বলেন, ‘দলগুলোর প্রস্তুতি ও ট্রেনিং পর্যবেক্ষণে আলাদা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের জন্য অ্যান্টি-ডোপিং, সেফগার্ডিং এবং কম্পিটিশন ম্যানিপুলেশন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও করা হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের কোথায় কীভাবে থাকতে হবে, কী করা যাবে বা যাবে না, এসব বিষয়েও দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।’
তবে বড় কন্টিনজেন্ট নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পদকের সম্ভাবনা সীমিত হলে এত বড় বহর কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ বলেন, ‘সব দেশ শুধু পদকের আশায় এশিয়ান গেমসে যায় না। অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ডিসিপ্লিনে সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্রীড়াবিদদের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে