নিজ দেশের কোচ হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অস্থিতিশীলতার কারণে দায়িত্ব নিতে ভয় পান দেশটির কিংবদন্তি লেগস্পিনার মুশতাক আহমেদ। বর্তমানে বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচের দায়িত্বে থাকা মুশতাক মনে করেন, সফরের মাঝপথে কোচ ও ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কোচিং পেশাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেটে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই বিবিসির ‘স্টাম্পড’ পডকাস্টে পাকিস্তানের কোচ হওয়ার বিষয়ে মুশতাকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, নিজের দেশকে কোচ করানোর ইচ্ছা তার অবশ্যই আছে। তবে মাঝপথে কাউকে বরখাস্ত হতে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়। তার মতে, মানুষকে যথাযথ সম্মান না দেওয়া এবং আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কোচিংয়ের পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তোলে।
মুশতাক বলেন, এসব সমস্যার সমাধান হলে শুধু তিনি নন, কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের প্রত্যেক সাবেক ক্রিকেটারই দেশের সেবা করতে চাইবেন।
সফরের মাঝপথে সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটার। তার ভাষ্য, পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সরফরাজ ও উমর গুল দুজনই দেশের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের সরানোর সিদ্ধান্ত সফর শেষ হওয়ার পর নেওয়া যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুশতাকের পরামর্শ, ক্রিকেটের কঠিন সময় পার করা সাবেক খেলোয়াড় ও অধিনায়কদের নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করতে পারে পিসিবি। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পেশাদার ক্রিকেট পরিচালনায় উপযুক্ত জায়গায় বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ মানুষদের প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জেডি