শুরুটা ছিল চেলসির। শেষটাও হওয়ার কথা ছিল তাদেরই—এমন একটা গল্পের ইঙ্গিত মিলেছিল ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটেই। কিন্তু এমিরেটস স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত গল্পটা লিখল আর্সেনাল। শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র দুই মিনিট। চেলসির আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ম্যাটি রজার্স দূরপাল্লার ডান পায়ের শটে আর্সেনালের জালে বল পাঠান। জে. হাতোর সহায়তায় পাওয়া সেই গোলে মুহূর্তেই এগিয়ে যায় চেলসি।
এমন শুরু আর্সেনালের পরিকল্পনাকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু গোল হজমের পর তারা আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে চেলসিকে পেছনে ঠেলে দিতে থাকে স্বাগতিকেরা। ম্যাচের একপর্যায়ে আর্সেনালের বল দখল উঠে যায় ৬৮ শতাংশে।
১২ মিনিটে আর্সেনাল গোলও করেছিল। রিকার্দো কালাফিওরির নামে গোলটি উঠলেও ভিএআরে দেখা যায় অফসাইড। ফলে গোল বাতিল হয়। তবে সেটিই যেন ছিল আর্সেনালের প্রত্যাবর্তনের আভাস।
এরপর ১৮ মিনিটে বুকায়ো সাকার শট ঠেকিয়ে চেলসিকে স্বস্তি দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিছুক্ষণ পর গ্যাব্রিয়েলের শটও রুখে দেন তিনি। আর্সেনালের চাপ বাড়ছিল, আর চেলসির রক্ষণ ক্রমেই পরীক্ষার মুখে পড়ছিল।
২৫ মিনিটে সেই চাপের ফল মিলল।
ডেকলান রাইসের সহায়তায় দূরপাল্লার বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কাই হাভার্টজ। চেলসির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই সমতায় ফেরে আর্সেনাল। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরি করেছিল। বিরতির ঠিক আগে পেদ্রো নেতোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় অল্পের জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি চেলসি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও পরিষ্কারভাবে চলে যায় আর্সেনালের হাতে।
৫০ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ক্রিস্তোস তজোলিসের তৈরি করা সুযোগ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান মার্টিন ওডেগার্ড। রিকার্দো কালাফিওরি গোলের আগে গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়েছিলেন। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।
এরপর চেলসি সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছে। ক্রমে আক্রমণে উঠেছে তারা, কিন্তু আর্সেনালের রক্ষণে বারবার আটকে গেছে। ৬৩ মিনিটে কোল পালমারের ভালো শটও ঠেকিয়ে দেন ডেভিড রায়া। ৮৯ মিনিটে এসতেভাওয়ের শটও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আর্সেনালের গোলরক্ষক।
শেষ দিকে ম্যাচে উত্তেজনাও বাড়ে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। যোগ করা সময়েও চেলসি সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু আর্সেনাল রক্ষণ ধরে রাখে।
শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে ২-১। দুই মিনিটে পিছিয়ে পড়া আর্সেনাল শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচজুড়ে বল দখলেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা—৫৫ শতাংশ বল ছিল আর্সেনালের পায়ে, চেলসির ৪৫ শতাংশ। তবে সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের প্রত্যাবর্তন। দ্রুত গোল হজম করার পর নিজেদের সামলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে জয়সূচক গোল করা—সব মিলিয়ে চেলসির বিপক্ষে আর্সেনালের জয় হয়ে থাকল দৃঢ় মানসিকতারও এক গল্প।
সময়ের আলো/টিকে