ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার হাতে। আক্রমণ, বল দখল কিংবা সুযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই স্বাগতিকদের চেয়ে এগিয়ে ছিল তারা। সেই আধিপত্যের প্রতিফলন দেখা গেল স্কোরলাইনেও। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলসহ পাঁচটি গোল করে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা।
মেস্তায়ায় ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। রদ্রির বাড়ানো বল থেকে ফার্মিন লোপেজের সহায়তায় ডান পায়ের নিখুঁত চিপে ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইয়ামাল।
এরপর ২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফার্মিন লোপেজ। লামিনে ইয়ামালের তৈরি করা আক্রমণ থেকে অ্যালেক্স গর্ডনের সহায়তা নিয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বার্সেলোনার আক্রমণের চাপ আরও বাড়তে থাকে। ৪০ মিনিটে ফার্মিন লোপেজের শট গোলরক্ষক প্রতিহত করার পর পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালও আরেকটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে ফার্মিন লোপেজের সহায়তায় রাফিনিয়া গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। পাল্টা আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এরপরও থামেনি বার্সেলোনার আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে রদ্রির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর ভ্যালেন্সিয়ার সামনে ব্যবধান কমানোর সুযোগও এসেছিল। ৫৮ মিনিটে আলেকজান্ডার গর্ডন ভালো অবস্থান থেকে শট নিলেও দিমিত্রিয়েভস্কি তা ঠেকিয়ে দেন। একই সময়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন গর্ডন।
৭৯ মিনিটে চতুর্থ গোল পায় বার্সেলোনা। দানি ওলমোর পাস থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান পেদ্রি। গোলটির আগে ওলমোকে সুযোগটি তৈরি করে দেন পেদ্রি।
শেষদিকে আবারও গোলের দেখা পান ইয়ামাল। ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। ভিএআরের কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকে। তাতে বার্সেলোনার জয় পায় পূর্ণতা।
ম্যাচজুড়ে বল দখলেও ছিল বার্সেলোনার পরিষ্কার আধিপত্য। তাদের দখলে ছিল ৭৩ শতাংশ বল, বিপরীতে ভ্যালেন্সিয়ার দখলে ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ। আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে একাধিকবার আক্রমণের চেষ্টা হলেও বার্সেলোনার রক্ষণ ও গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার সামনে তা কার্যকর হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে ইয়ামালের জোড়া গোল, রাফিনিয়া ও পেদ্রির গোল এবং ফার্মিন লোপেজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মেস্তায়ায় বড় জয় তুলে নেয় বার্সেলোনা।
সময়ের আলো/টিকে