ইংল্যান্ড সফরে মাঠের বাইরের বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না পাকিস্তানকে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হেরে ইতিমধ্যে সিরিজ খুইয়েছে দলটি। এর মধ্যেই তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মুঠোফোন জব্দ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ফোনগুলো টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের হেফাজতে থাকবে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের সম্প্রচার ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ৩৬৫ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের ফোন পিসিবির কাছে থাকবে। তবে ঠিক কোন কোন ক্রিকেটারের ফোন নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ফোন জব্দের কারণও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বোর্ড।
এ কারণেই ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দলের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটারের ফোন হঠাৎ করে বোর্ডের হেফাজতে নেওয়ায় ম্যাচ পাতানো বা দুর্নীতিবিরোধী কোনো তদন্তের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানো, জুয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা অন্য কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ চলাকালে মুঠোফোন ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইসিসির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত ফোন পুরোপুরি বোর্ডের হেফাজতে নিয়ে রাখার ঘটনা সাধারণ নয়। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রিকেটারদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কলের তথ্য, বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন, ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইসের পাসওয়ার্ডও চাওয়া হতে পারে।
এমনিতেই এবারের ইংল্যান্ড সফর পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির নয়। লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে যায় তারা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
এরপর পাকিস্তান দলে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় টেস্টে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাইক হেসন।
এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের ফোন জব্দের ঘটনা পাকিস্তান দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ফোনগুলো ঠিক কোন কারণে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পিসিবির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/টিকে