নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রান্ত (১৬) নামে অটোচালককে হত্যার দায়ে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দশ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক দেলোয়ার হোসেন এই আদেশ দেন। এ মামলার অন্য একটি ধারায় অভিযুক্ত চারজনকে আরও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অন্য আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩৫), একই গ্রামের মাজেদুল মন্ডল (৩০) ও রানা (২৪), কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার লিটন ওরফে মিঠুন মন্ডল (২৯) এবং রাজশাহীর বাঘা এলাকার শওকত আলী (৬১)।
আসামিদের মধ্যে রানা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের দিন থেকে রায় কার্যকর হবে এবং আগে থেকে গ্রেফতারকৃতরা যতদিন হাজতবাস করেছেন, সেই সময় দণ্ড থেকে মওকুফ পাবেন।
অর্থদণ্ড প্রাপ্তি সাপেক্ষে মোট টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা আদালতের মামলার ব্যয়ভার রেখে বাকিটা বাদীকে প্রদান করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে তিন ব্যক্তি আড়ানি বাজার থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা বাজারে আসার কথা বলে প্রান্তের ভ্যানটি ভাড়া করে। সেই রাতে প্রান্ত আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের একটি ফসলি জমিতে তার হাত-পা বাঁধা ও মুখের মধ্যে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নাটোর জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা প্রান্ত চার্জারভ্যান গাড়ি চালাত। এ ঘটনায় নিহত প্রান্তের বাবা জিয়া সর্দার সেদিনই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ১৭ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এই রায় দেন বিচারক।
সময়ের আলো/মহু