নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া। তার কথায়, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা প্রয়োজন নেই। স্থানীয় জনগণ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া খাল ভরাটের বিষয়টিও সঠিক নয়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তাটি করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি সরকারি খালের মধ্যে রাস্তা পড়ে থাকে সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে সরকারি টাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা জানি, এটি ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য চলাচলের রাস্তা। কারও ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। ইউএনও আরও বলেন, কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে খালে ভেঙে পড়ছে মাটি ও বালু। ভরাটের ফলে খালের বেশ কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান খাল খননের কার্যক্রম চালালেও এই ইউপি চেয়ারম্যানের খাল দখল করে রাস্তা নির্মাণ করায় হতবাক হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সরকারি টাকায় চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুলতা ইউনিয়নে উন্নয়নের অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর দিকে নজর না দিয়ে চেয়ারম্যান তার নিজ বাড়ির ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এনেছেন। অথচ তার বাড়িতে চলাচলের জন্য রাস্তা রয়েছে। ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটির জন্য ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা পরিষদ।
সরেজমিন দেখা যায়, সরকারি খালের একাংশ দখল করে গজারি গাছ ও বাঁশ গেড়ে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে করে ওই খালের পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের আমলেও দলের প্রভাব খাটিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করেছেন। বর্তমান বিএনপির আমলেও তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে দুবার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার আরিফুল। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য।
বর্তমানেও তিনি ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুলকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
সময়ের আলো/আআ