সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার ঘোষিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন ও কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অনুমোদনের একদিন পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ রিয়াদকে অবশ্যই যোগ দিতে হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সৌদি আরব রাজি না হলে পারমাণবিক চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে বলেও হোয়াইট হাউস থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় লিখেন, এই চুক্তিটি অনুমোদন পাবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে সৌদি আরবের মর্যাদাপূর্ণ ও সফল ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য নিশ্চিত করে বলেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর না করে, তবে এই পারমাণবিক চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এবং সৌদি আরবের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে চুক্তি ঘোষণার সময় রিয়াদের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো চুক্তিটি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরব নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পাবে। তবে নিজের বার্তায় সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা হবে না! আমেরিকা কেবল অ-সমৃদ্ধ বেসামরিক পারমাণবিক সুবিধার পক্ষে।’
সৌদি আরব ও আমেরিকার মধ্যকার এই পারমাণবিক চুক্তির খবর চাউর হতেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক সম্প্রসারণ বিরোধী বিশেষজ্ঞরা ও আমেরিকান আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ তদারকি ছাড়া এই প্রযুক্তি হস্তান্তরিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই নতুন রূপ নিতে পারে।
এদিকে ভিয়েনাভিত্তিক সংস্থা ‘আইএইএ’ জানিয়েছে, তারা আমেরিকা-সৌদি চুক্তির বিষয়ে অবগত। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের কোনো অনুরোধ এখনও রিয়াদ বা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আসেনি।
সৌদি সরকার ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক শর্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০২০ সালে) আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ মধ্যস্থতা করেন। এ চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে অনড় ছিল। এবার মার্কিন পারমাণবিক সুবিধার বিনিময়ে রিয়াদকে সেই পুরোনো অবস্থানেই চেপে ধরতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সময়ের আলো/কেএইচ