জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ। তবে নামাজের আগে যে খুতবা দেওয়া হয়, সেটিও জুমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই মনে করেন, খুতবা শুধু শুনলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—খুতবা শুধু শোনার জন্য নয়, এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের জন্যও।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’
তাফসিরবিদদের মতে, এখানে ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে জুমার খুতবা ও নামাজ, উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। তাই খুতবার সময় উপস্থিত থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা আল্লাহর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি জুমার দিন খুতবা চলাকালে তোমার সঙ্গীকে ‘চুপ থাকো’ বলো, তবে তুমিও অনর্থক কাজ করলে।’
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবার সময় কথা বলা, মোবাইল ব্যবহার করা বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়। মুসল্লিকে নীরবে ও মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শুনতে হবে।
তবে শুধু শোনাই যথেষ্ট নয়। খুতবায় সাধারণত তাকওয়া, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক দায়িত্ব, প্রতিবেশীর হক, সামাজিক সচেতনতা এবং কোরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন শিক্ষা তুলে ধরা হয়। এসব কথা যদি বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত না হয়, তাহলে খুতবার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার খুতবা হলো সাপ্তাহিক শিক্ষা ও আত্মসংশোধনের একটি মাধ্যম। তাই একজন মুসলমানের উচিত প্রতি জুমার খুতবা থেকে অন্তত একটি শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। খুতবা শুধু শোনা নয়, এর আলোকে নিজের আমল ও চরিত্র সংশোধন করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র : সুরা জুমু'আ, আয়াত : ৯। সবুখারি, হাদিস : ৯৩৪। মুসলিম, হাদিস : ৮৫১।
সময়ের আলো/এসএকে