নারীঘটিত ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় দুই হলের অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক নারী শিক্ষার্থীকে কটুক্তি করার জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী শহিদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দেয়। এরপর রাত সাড়ে তিনটার দিকে শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে হামলা চালায়। এ সময় তারা হলের জানালার কাঁচ, সিসিটিভি ও লাইট ভাঙচুর করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এই হামলায় রাতে ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরদিন শুক্রবার দুপুরে আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরকে কেন্দ্র করে দুপুর আড়াইটার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই হলের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আরও ৪ জন আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, মধ্যরাতের ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। তবে শুক্রবার নামাজের পর আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
তিনি বলেন, একটি সামান্য বিষয় নিয়ে মারামারি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। অতি দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি