সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ। তাহলে এত কথা লিখতে হলো কেন? তিনি নিজেই পদত্যাগপত্র লিখেছেন, নাকি তাকে দিয়ে এত কথা লেখানো হয়েছে?
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রের ছবি শেয়ার করে এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শিশির মনির আরও লেখেন, ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি কী করেছেন সেটা লিখেছেন। আবার তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট ঘটেনি’ এর সঙ্গে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের কী সম্পর্ক?
এদটিন, বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় সংসদের সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ওই পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।
৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
তিনি সবশেষ লেখেন, এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ